বিভিন্ন ধরণের বিনিয়োগে কত ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হয়…?

5/5 - (4 জন রেটিং করেছেন)

‘এইতো মোদের, একটু টাকা… আরো একটু বেশী হলে ক্ষতি কি…!’

আমরা সবাই বিনিয়োগ করে ভালো রিটার্ন পেতে চাই। আর সেই উদ্দেশ্যে আমাদের উপযুক্ত অ্যাসেট খুঁজে তবে বিনিয়োগ করতে হয়। ভালো অ্যাসেট কোনটা সেটা বোঝার জন্য বিভিন্ন ধরণের অ্যাসেটের হিস্টোরিকাল রিটার্নের তুলনা করতে হয়। কিন্তু বেশীরভাগ সময়েই আমরা রিটার্নের যে হার গুলো নিয়ে তুলনা করি, সেগুলো পুরো ছবিটা তুলে ধরে না। কারণ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সের ব্যাপারটা আমরা ধর্তব্যের মধ্যেই রাখি না।

যেকোনো অ্যাসেটে বিনিয়োগের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিনিয়োগের পর বেশি দামে বেচে লাভ পকেটস্থ করা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বেচার সময় পুরো লাভটা নিজের কাছে রাখা যায়না। কারণ ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট অনুযায়ী যেকোনো অ্যাসেট বিক্রি করার সময় যে লাভ হয় সেই লাভের কিছু অংশ ট্যাক্স হিসেবে সরকারের হাতে তুলে দিতে হয়। তাই যেকোনো অ্যাসেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের প্রকৃত প্রাপ্তি = রিটার্ন –  ট্যাক্স।

কতটা বা কি হারে এই ট্যাক্স দিতে হবে সেটা অ্যাসেটের ধরণ ও কেনার কতদিন পরে বেচা হচ্ছে সেই সময়ের (হোল্ডিং পিরিয়ড) উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। এই নিবন্ধে ইকুইটি শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, ইটিএফ, ফিক্স ইনকাম ইন্সট্রুমেন্ট, সোনা, রিয়েল এস্টেট ইত্যাদি বিভিন্ন রকম অ্যাসেটের ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতিতে কত ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হয় সেব্যাপারে জানতে পারবেন। 

সূচীপত্র দেখান

ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স

অ্যাসেট বিক্রি করে পাওয়া লাভের উপর যে ট্যাক্স দিতে হয় তাকে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বলে। ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্টে বিভিন্ন ধরণের অ্যাসেটের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হারে ট্যাক্সের উল্লখ করা আছে।

আবার আসেট কেনার পর কতদিন নিজের কাছে রাখার পর বিক্রি করা হচ্ছে সেই অনুযায়ী দেয় ট্যাক্স দুই ধরণের হতে পারে। যথাঃ

আরও পড়ুনঃ  শেয়ার বাজারের 5 স্বনামধন্য ট্রেডার - ইনভেস্টার - যারা এখানেই খুঁজে পেয়েছেন গুপ্তধন

#১ শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বা এসটিসিজি

শেয়ার কেনার পর যদি কম সময়ের মধ্যেই বেচে দিয়ে প্রফিট বুক করা হয় তবে সেক্ষেত্রে যে লাভ হয় সেটাকে শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেইন বলে আর এক্ষেত্রে যে ট্যাক্স প্রযোজ্য হয় সেটাকে শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বা এসটিসিজি বলা হয়। অ্যাসেট ভেদে ১ থেকে ৩ বছরের হোল্ডিং পিরিয়ডকে ‘শর্ট টার্ম’ হিসাবে ধরা হয়।

প্রায় সব ধরণের অ্যাসেটের ক্ষেত্রেই এসটিসিজি সাধারণত বিনিয়োগকারীর ইনকাম ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী প্রযোজ্য হয় (ব্যাতিঃ লিস্টেড দেশীয় ইকুইটি)।

#২ লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বা এলটিসিজি

‘শর্ট টার্ম’ হোল্ডিং পিরিয়ড পেরিয়ে যাওয়ার পর অ্যাসেট বেচা হলে যে লাভ হয় সেটাকে লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন বলা হয় আর সেক্ষেত্রে লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বা এলটিসিজি দিতে হয়।

বেশীরভাগ অ্যাসেটের ক্ষেত্রেই এলটিসিজির সাধারণ হার ইন্ডেক্সেশন সহ ২০% (ব্যাতিঃ লিস্টেড দেশীয় ইকুইটি) হয়। ইনডেক্সেশন মানে অ্যাসেটের কেনা দামের উপর মুদ্রাস্ফীতি অ্যাডজাস্ট করার পর (তুলনামূলক কম) সুদ দেওয়া।

বিভিন্ন ধরণের ইকুইটি শেয়ারের ক্ষেত্রে ট্যাক্সের নিয়ম

দেশীয় লিস্টেড ইকুইটি শেয়ার

দেশীয় লিস্টেড ইকুইটি শেয়ার মানে সাধারনভাবে শেয়ার বাজারে যেসমস্ত শেয়ার কেনা যায় সেগুলো বোঝায়। এক্ষেত্রে শর্ট টার্ম হোল্ডিং পিরিয়ড ধরা হয় ১ বছর। মানে এধরণের যেকোনো সাধারণ ইকুইটি শেয়ারে সরাসরি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কেনার ১ বছরের ভিতরে বেচে দিলে এসটিসিজি দিতে হয় আর ১ বছর পর বেচলে এলটিসিজি ট্যাক্স দিতে হয়।

এক্ষেত্রে এসটিসিজি-র হার ১৫% (ফ্ল্যাট রেট) আর এলটিসিজি-র ১০%। এই দুটো হার উপরে উল্লিখিত সাধারণ হারের থেকে আলাদা। বছরে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভের ক্ষেত্রে এলটিসিজি-তে ছাড় পাওয়া যায়। এর বেশী লাভ হলে তবেই ট্যাক্স দিতে হয়।

দেশীয় আনলিস্টেড ইকুইটি শেয়ার

এক্সচেঞ্জে লিস্টেড কোম্পানি বাদে কোনো আনলিস্টেড কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে শর্ট টার্ম হোল্ডিং পিরিয়ড ধরা হয় ২ বছর অর্থাৎ ২ বছরের আগে বেচলে এসটিসিজি এবং তার পরে এলটিসিজি প্রযোজ্য হয়। দুই ট্যাক্সের হার উপরে উল্লিখিত সাধারণ হারের সমান। অর্থাৎ এসটিসিজি ইনকাম ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী এবং এলটিসিজি ইনডেক্সেশন সহ ২০%। 

বিদেশী ইকুইটি শেয়ার

একজন ভারতীয় নাগরিক সর্বাধিক আড়াই লাখ ডলারের সমতুল্য টাকা বিদেশী শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারে। নতুন ট্যাক্সের নিয়মে এলআরএস-এর মাধ্যমে সরাসরি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুরুতেই ২০% টিসিএস (ট্যাক্স কালেক্টেড অ্যাট সোর্স) কেটে নেওয়া হয় (যদিও এটা মোট দেয় ট্যাক্সের সাথে অ্যাডজাস্ট করা যায়)। এবং বিনিয়োগের শেষে লাভের উপর দেশীয় আনলিস্টেড শেয়ারের মতো একই ট্যাক্সের নিয়ম প্রযোজ্য হয়।

আরও পড়ুনঃ  শেয়ার বাজার আসলে কী?

>> বিশেষ ক্ষেত্রে হোল্ডিং পিরিয়ডের হিসেব

এতক্ষন যেসমস্ত ইকুইটি শেয়ারের কথা বলছিলাম সেগুলো হচ্ছে সরাসরি শেয়ার বাজার ট্রানজ্যাকশনের সাহায্যে পাওয়া। এই সব ক্ষেত্রে কেনার দিন থেকেই হোল্ডিং পিরিয়ড শুরু হয়ে যায়। কিন্তু যদি এগুলোর উৎস সরাসরি শেয়ার বাজার না হয়ে রাইটস ইস্যু, বোনাস শেয়ার, উপহার ইত্যাদি হয় সেক্ষেত্রে ট্যাক্স ক্যালকুলেশনের জন্য হোল্ডিং পিরিয়ডের হিসাবটা আলাদা ভাবে করা হয়। যেমন,

শেয়ারের প্রকারভেদহোল্ডিং পিরিয়ড যখন থেকে ধরা হয়
রাইটস শেয়ারঅ্যালটমেন্ট ডেট
বোনাস শেয়ারঅ্যালটমেন্ট ডেট
প্রেফারেন্স শেয়ারের বদলে পাওয়া ইকুইটি শেয়ারপ্রেফারেন্স শেয়ার যখন থেকে কেনা ছিল
উপহার বা উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া শেয়ারআগের হোল্ডারের কেনার দিন থেকে

বিভিন্ন ধরণের মিউচুয়াল ফান্ড ও ইটিএফ-এর ক্ষেত্রে ট্যাক্সের নিয়ম

মিউচুয়াল ফান্ড ও ইটিএফ-এ বিভিন্ন ধরণের অ্যাসেটে বিনিয়োগ করা হয়। আন্ডারলাইং অ্যাসেটের উপর নির্ভর করে এক্ষেত্রে ট্যাক্সের হার আলাদা আলাদা রকম হয়।

দেশীয় ইকুইটিতে বিনিয়োগ ৬৫%-এর থেকে বেশি এমন ফান্ড

এধরণের ফান্ডগুলোতে দেশীয় লিস্টেড ইকুইটি শেয়ারের ট্যাক্সের নিয়ম প্রযোজ্য। মানে ১ বছরের ভিতরে এসটিসিজি ১৫%, এবং ১ বছরের পরে এলটিসিজি ১০%।

দেশীয় ইকুইটিতে বিনিয়োগ ৬৫%-এর কম কিন্তু ৩৫%-এর বেশি এমন ফান্ড 

এক্ষেত্রে শর্ট টার্ম হোল্ডিং পিরিয়ড ৩ বছর আর সাধারণ এসটিসিজি ও এলটিসিজি ট্যাক্সের হার প্রযোজ্য।

দেশীয় ইকুইটিতে বিনিয়োগ ৩৫%-এর কম এমন ফান্ড

নতুন নিয়মে যেসমস্ত ফান্ডে দেশীয় ইকুইটিতে বিনিয়োগ ৩৫%-এর থেকে কম সেই সমস্ত ফান্ডকে একই ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে। মানে এই ক্যাটাগরির আওতায় চলে আসছে,

  • বিবিধ ডেট (debt) মিউচুয়াল ফান্ড ও ইটিএফ
  • হাইব্রিড ফান্ড (<৩৫% ইকুইটির ভাগ সহ)
  • গোল্ড ফান্ড ও ইটিএফ
  • ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ও ইটিএফ

এক্ষেত্রে লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সের কোনো অস্তিত্ব নেই। যখনই বেচে প্রফিট বুক করা হোক না কেন, বিনিয়োগকারীর ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী এসটিসিজি দিতে হয়।

বিভিন্ন ফিক্সড ইনকাম ইন্সট্রুমেন্টে ট্যাক্সের নিয়ম

ফিক্সড ইনকাম ইন্সট্রুমেন্টগুলো বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন ডিবেঞ্চার, গভর্নমেন্ট সিকিউরিটি, কর্পোরেট বন্ড, ট্যাক্স-ফ্রি-বন্ড ইত্যাদি। এই সমস্ত ইন্সট্রুমেন্ট-গুলো লিস্টেড-ও হতে পারে আবার আনলিস্টেড-ও হতে পারে।

  • লিস্টেড ফিক্সড ইনকাম ইন্সট্রুমেন্টের ক্ষেত্রে শর্ট টার্ম হোল্ডিং পিরিয়ড ১ বছর ধরা হয় এবং সাধারণ হারে এসটিসিজি ও এলটিসিজি প্রযোজ্য হয়। তবে এক্ষেত্রে আরবিআই এর সভারিন গোল্ড বন্ড আর ভারত সরকারের ক্যাপিটাল ইনডেক্সড বন্ডের মতো কিছু ইন্সট্রুমেন্ট ছাড়া সব ক্ষেত্রে এলটিসিজি ট্যাক্সের ইনডেক্সেশনের সুবিধা পাওয়া যায় না।
  • আনলিস্টেড ইন্সট্রুমেন্টের ক্ষেত্রে শর্ট টার্ম হোল্ডিং পিরিয়ড ৩ বছর ধরা হয় আর সাধারণ হারে এসটিসিজি ও এলটিসিজি দিতে হয়।
আরও পড়ুনঃ  সবথেকে সেরা 10+ চার্ট প্যাটার্ন। এগুলো না জেনে শেয়ার ট্রেডিং সম্ভব নয়।

সোনায় বিনিয়োগে ট্যাক্সের নিয়ম

সোনায় বিনিয়োগের প্রধান রাস্তা ৩টে।

  • গোল্ড ফান্ড ও ইটিএফ – এক্ষেত্রে <৩৫% ইকুইটি ফান্ডের নিয়মে ট্যাক্স ধার্য হয় যেব্যাপারে একটু আগেই বলেছি।
  • সাধারণ গয়নার সোনা, সোনার বিস্কুট বা সোনার কয়েন (ফিজিক্যাল গোল্ড) – ফিজিক্যাল গোল্ডের ক্ষেত্রে শর্ট টার্ম হোল্ডিং পিরিয়ড ৩ বছর এবং লং ও শট টার্ম দুই ক্ষেত্রে ট্যাক্সের হার সাধারণ। তাছাড়া এক্ষেত্রে প্রতি ট্রানজ্যাকশনের সময় জিএসটি-ও প্রযোজ্য।
  • সভারিন গোল্ড বন্ড – বন্ড ম্যাচিওর করলে এক্ষেত্রে কোনো ট্যাক্স দিতে হয় না। তবে ম্যাচুরিটির আগে বিক্রি করে দিলে ফিজিক্যাল গোল্ডের মতোই ট্যাক্স পড়ে। এছাড়া এক্ষেত্রে যে ২.৫% সুদ পাওয়া যায় সেটার উপরেও ইনকাম ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী ট্যাক্স প্রযোজ্য হয়।

রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগে ট্যাক্সের নিয়ম

সাধারণ রিয়েল এস্টেট প্রপার্টির ক্ষেত্রে শর্ট টার্ম হোল্ডিং পিরিয়ড ২ বছর। এবং এসটিসিজি ও এলটিসিজি-র সাধারণ হার প্রযোজ্য হয়। তবে এক্ষেত্রে আরও কিছু অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হয়। যেমন, ৫০ লাখের বেশী দামের প্রপার্টি বিক্রির ক্ষেত্রে ১% টিডিএস দিতে হয়।

ইদানিংকালে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের নতুন একটা উপায় রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট বা আরইআইটি-র উদ্ভাবন হয়েছে। এক্সচেঞ্জে লিস্টেড আরইআইটি-তে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শর্ট টার্ম হোল্ডিং পিরিয়ড ৩ বছর ধরা হয়। এর ভিতরে বেচতে চাইলে ইকুইটির মতোই ১৫% এসটিসিজি ট্যাক্স দিতে হয় আর এর বাইরে ১০% এলটিসিজি ট্যাক্স দিতে হয়।

শেষ কথা

বিনিয়োগের জন্য অ্যাসেট বেছে নেওয়ার আগে তার সঙ্গে জড়িত ট্যাক্সের ব্যাপারে জানলে তবেই প্রকৃত রিটার্ন কত হতে পারে সেব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া ট্যাক্স পেমেন্টের সময় বা রিটার্ন সাবমিট করার সময়েও সঠিকভাবে ও সহজে কাজটা করা যায়।

তাহলে এখন থেকে বিনিয়োগের জন্য অ্যাসেট খোঁজার সময় ট্যাক্সের দিকটাতেও নজর রাখুন, আর আরও লাভের পথ প্রশস্ত করুন!


প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

শর্ট টার্ম ও লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সের মধ্যে কোনটা বেশী?

সাধারণত শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সের হার বেশি হয়।

ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স এড়ানো যায় কি?

না। ট্যাক্স এড়ানো সম্ভব নয়। তবে ট্যাক্স এফিশিয়েন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান করে এর পরিমাণটা কমিয়ে আনা যায়। যেমন ধরুন সাধারণত এলটিসিজি-র থেকে এসটিসিজি বেশি হয়, তাই এমনভাবে বিনিয়োগের প্ল্যান করা উচিত যাতে এসটিসিজি দেওয়া থেকে বিরত থাকা যায়।


মন্তব্য করুন