ট্রেডিং-এ কতগুলো মনিটর দরকার? কিভাবে সেটআপ করবেন? নতুনদের জন্য

5/5 - (1 জন রেটিং করেছেন)

ইউটিউবে অনেক ট্রেডারদেরই ট্রেডিং করার সময় ২টো, ৪টে, ৬টা, ৮টা, ১০টা, এমনকি ৪০ টা পর্যন্ত মনিটর একসঙ্গে ব্যবহার করতে দেখা যায়। এসব কাণ্ডকারখানা দেখে যারা নতুন ট্রেডার তাদের মনে স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্ন জাগে যেমন,

  • কটা মনিটর ব্যবহার করলে তবে সফল ট্রেডার হওয়া যায়?
  • ট্রেডিং-এর সময় ওগুলো ব্যবহারই বা কিভাবে করে?
  • একটা কম্পিউটারে অনেকগুলো মনিটর কিভাবে সেটআপ করতে হয়?
  • পাশাপাশি নাকি উপরনিচে, আড়াআড়ি নাকি লম্বালম্বি – ওগুলো কিভাবে সাজানো ভালো?
  • কত সাইজ বা কত রেজলিউশন-এর মনিটর এক্ষেত্রে আদর্শ?
  • সত্যিই কি অনেকগুলো মনিটরের দরকার পড়ে?

ট্রেডিং-এ একাধিক মনিটর ব্যবহার করার ব্যাপারে এধরণের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এই নিবন্ধে।

সূচীপত্র দেখান

মাল্টি মনিটর সেটআপ কী?

একটা কম্পিউটারের সিপিইউ-এর সাথে যখন একের বেশি মনিটর যোগ করে এবং সেগুলোকে নিজের সুবিধামতো পাশাপাশি বা উপর-নিচে রেখে যখন একসাথে ব্যবহার করার ব্যবস্থাপনা করা হয় হয় তখন তাকে মাল্টি মনিটর সেটআপ বলে।

ট্রেডিং এবং একাধিক মনিটর

আজকের দিনে শেয়ার বাজার এবং বিশেষ করে ট্রেডিং ভীষণই জটিল ও সফিস্টিকেটেড একটা জিনিসে পরিণত হয়েছে। বাজার সংক্রান্ত হাজারো তথ্য খুব সহজেই আমাদের সকলের নাগালের মধ্যে এসে গেছে। আর ওই তথ্যের সুনামির মধ্য থেকে নিজের কাজে লাগার মতো তথ্য ফিল্টার করার বিষয়টাই হয়ে গেছে একাধারে জটিল আর অন্যদিকে টেকনোলজি নির্ভর ও সফিস্টিকেটেড।

এই বাজারে ট্রেডিং করে অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকার জন্য ওই হাজারো ডেটা পয়েন্টের মধ্যে নিজের লক্ষ্য বা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ইন্সট্রুমেন্ট, চার্ট, ইন্ডিকেটর, ইনডেক্স, অর্ডার ফ্লো, খবর ইত্যাদি জিনিসের উপর অনবরত নজর রাখার প্রয়োজন পড়ে। এবং এটা করতে গিয়ে সামগ্রিক ভাবে বাজারের উপর দূরদৃষ্টি বজায় রেখে হাতেগোনা কয়েকটা বিষয়ের ওপর লেজার ফোকাস করতে হয়।

আর যেহেতু ট্রেডিং বা উপরে বর্ণিত এই পুরো কাজটাই আজকের দিনে পুরোপুরি টেকনোলজি নির্ভর এবং স্ক্রীন বা কম্পিউটার মনিটরেই করতে হয় তাই স্ট্র্যাটেজির জটিলতার উপর নির্ভর করে যত বেশী তথ্যের উপর একসাথে নজর রাখার দরকার পড়ে ততই দরকার পড়ে আরও স্ক্রীন স্পেসের। আর একটায় যখন আর জায়গা সংকুলান হয়না তখন দরকার পড়ে আরও অতিরিক্ত মনিটরের।

একাধিক মনিটর আসলে কী করতে বা দেখতে ব্যবহার করা হয়?

বিভিন্ন ট্রেডার তাদের স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী বিভিন্ন কাজে একের বেশি মনিটর ব্যবহার করে থাকে। তবে মোটামুটি সাধারণভাবে যে যে কারণে বা যে যে জিনিস দেখতে ওগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো হলো,

আরও পড়ুনঃ  কিভাবে টাকা বাড়ানো যায়? বিনিয়োগের সেরা 10 বিকল্প।

#১ বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্টের চার্ট

যারা একসাথে একাধিক শেয়ারের উপর বা এর পাশাপাশি ফিউচার, অপশন, কমোডিটি ইত্যাদি একাধিক ইন্সট্রুমেন্টের উপর ট্রেড করে তাদেরকে একসাথে একাধিক চার্টের ওপর লক্ষ্য রাখতে হয়। যে ইন্সট্রুমেন্টের উপর লাইভ ট্রেড চলছে সেটাকে প্রধান মনিটরে একেবারে চোখের সামনে রেখে যে ইন্সট্রুমেন্টের উপর ভালো পরিস্থিতি তৈরি হলে সম্ভাব্য ট্রেড নেওয়া যেতে পারে সেগুলোকে তারা সাধারণত পাশের বা উপরের মনিটারে রেখে থাকে।

#২ একই ইন্সট্রুমেন্টের বিভিন্ন টাইম ফ্রেমের চার্ট

যেকোনো একটা ইন্সট্রুমেন্টের উপর ট্রেড করার সময় সেটার গতিবিধির উপর পুঙ্খানুপুঙ্খ নজর রাখতে কেবলমাত্র একটা টাইম ফ্রেমের চার্ট দেখা যথেষ্ট নয়। একইসঙ্গে একাধিক টাইম ফ্রেমের চার্ট দেখলে শর্ট এবং লং টার্মের বিচারে সেটার দাম কোন দিকে যেতে পারে সে ব্যাপারে আরও ভালোভাবে বোঝা যায় এবং আরও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

তাই অনেকে একই ইন্সট্রুমেন্টের একাধিক টাইম ফ্রেমের চার্ট দেখার জন্যও একাধিক মনিটর ব্যবহার করে থাকে।

#৩ ইনডেক্স চার্ট

যে ইন্সট্রুমেন্টের উপরেই ট্রেড করা হোক না কেন, সেটার চার্টের পাশাপাশি বাজারের বেঞ্চমার্ক বা সেক্টরাল ইনডেক্সে কি হচ্ছে সেটার উপরও নজর রাখার দরকার পড়ে। কারণ বাজারের সামগ্রিক গতিবিধির প্রভাব প্রত্যেক শেয়ারের উপরও পড়ে।

এছাড়া ইনডেক্স অপশনে ট্রেড করলে অপশনের পাশাপাশি সেটার আন্ডারলাইং ইনডেক্সের চার্টের দিকে নজর তো রাখতেই হয়।

তাই এই উদ্দেশ্যে কোনো না কোনো মনিটরে কোনো একটা জায়গায় ইনডেক্সের চার্টটা খুলে রাখতেই হয়।

#৪ ইনডেক্স ফিউচার চার্ট

ইনডেক্স সরাসরি কেনাবেচা করা যায় না। তাই ইনডেক্সের সঙ্গে অর্ডার বা ভলিউম সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়না। ইনডেক্সের এই খামতি মেটাতে অনেকে এই চার্টের পাশাপাশি এর ফিউচারের চার্টও নজরে রাখে। কারণ ফিউচার কন্ট্রাক্ট কেনাবেচা হয় বলে ইনডেক্স ফিউচারের চার্টে অর্ডার ও ভলিউম সম্পর্কিত তথ্যগুলোও উপস্থিত থাকে।

#৫ হিটম্যাপ

সমগ্র বাজারের বা কোনো একটা সেক্টরের সেন্টিমেন্ট বুঝতে অনেকে বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সের আন্ডারলাইং শেয়ার বা কোনো সেক্টর স্পেসিফিক এক ঝাঁক শেয়ারের হিট ম্যাপের উপর নিরবিচ্ছিন্ন নজর রাখতে পছন্দ করে। হিট ম্যাপ দেখে এক ঝলকে অনেকগুলো শেয়ারের দামের ওভারঅল গতিবিধির উপর নজর রাখা যায় এবং বাজার বা কোনো একটা সেক্টরের ওভারঅল সেন্টিমেন্টটা বোঝা যায়।

#৬ ভিক্স

ভিক্স মানে হচ্ছে ভোলাটিলিটি ইনডেক্স। বাজারে ভোলাটিলিটি বা অস্থিরতা কেমন চলছে এবং সেটা কতখানি উপর নিচে হচ্ছে সেটা এই ভিক্স থেকে বোঝা যায়। তো অনেকে ট্রেড করার সময় এটার উপরও নজর রাখা পছন্দ করে। 

#৭ সম্ভাব্য শেয়ার বা অন্যান্য ইন্সট্রুমেন্টের তালিকা

এই তালিকা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রকম হতে পারে। কেউ কেউ ট্রেড করার জন্য কিছু শেয়ার বা অন্যান্য ইন্সট্রুমেন্ট শর্টলিস্ট করে সেটার ওপর নিরবিচ্ছিন্ন নজর রাখে এবং সঠিক সিগন্যাল পেলেই তৎক্ষণাৎ এন্ট্রি নেয়। আবার অনেকে হালফিলের উইনার – লুজার, হাই ভলিউম স্টক ইত্যাদির তালিকাও সবসময় সামনে রাখে।

সুতরাং এক বা একাধিক তালিকা চোখের সামনে রাখার জন্যও স্ক্রিন স্পেসের প্রয়োজন পড়ে।

#৮ মার্কেট ডেপথ ও টাইম অ্যান্ড সেলস

এন্ট্রি বা এক্সিটের সিদ্ধান্ত নিতে অনেকে মার্কেট ডেপথ (লেভেল ২) বা অর্ডার ফ্লো থেকে পাওয়া সিগন্যালের উপরেও নির্ভর করে। সাপ্লাই ডিম্যান্ডের ওঠাপড়া বুঝতে এটা কাজ দেয়। এটা অনেকক্ষেত্রে  চার্টের সাথেই থাকে, তবে খুলে রাখলে কিছুটা এক্সট্রা স্পেস তো ব্যবহার হয়-ই।

একই ধরণের আরও একটা টুল, যেটাকে অনেকে সব সময়ের জন্য মনিটরে একটু জায়গা দেয়, সেটা হচ্ছে টাইম অ্যান্ড সেলস উইন্ডো। এ থেকে অর্ডারের সাইজ আর স্পীড বোঝা যায়। সাপোর্ট আর রেজিস্ট্যান্স লেভেলে দাম নিজের পছন্দের ডাইরেকশনে মুভ করবে কিনা সে ব্যাপারে এটা থেকে কনফার্মেশন পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ  শেয়ার বাজার কেন আছে? এর প্রয়োজন কী? না থাকলেই বা কী হত?

#৯ অর্ডার বুক ও পজিশন

যে যে অর্ডারগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো ওপেন আছে নাকি এক্সিকিউট হয়ে গেছে সেটা বোঝার জন্য এবং সেগুলোর উপর নজর রাখতে অর্ডার বুক এবং তার সাথে পজিশনের তালিকাটাও সব সময় সামনে খুলে রাখতে হয়।

#১০ ওয়েবসাইট বা অ্যাপ স্পেসিফিক বিশেষ টুল 

অনেক সময় অনেক ওয়েবসাইট বা ট্রেডিং অ্যাপে কিছু বিশেষ বিশেষ টুল পাওয়া যায় যেগুলো অনেক ট্রেডার ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করে এবং সেগুলো সদাসর্বদা চোখের সামনে চিপকে রাখতে চায়।

#১১ খবর বা স্পেশাল টুইটার ফিড

যারা খবরের উপর নির্ভর করে ট্রেড করে তারা বিশেষ নিউজ ফিড বা বিশেষভাবে কাস্টমাইজ করা টুইটার ফিড কোনো একটা জায়গায় ওপেন রাখে।

এতকিছু আইটেম কিভাবে সাজাতে হয়

একটা বা মাল্টিপল স্ক্রিনে অনেকগুলো উইন্ডো টাইটেল বার ধরে ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করে সাজাতে হয়। একটা মনিটরে অনেকগুলো উইন্ডো ফিট করতে হলে উইন্ডোগুলোকে ম্যানুয়াল সাইজ তো করাই যায়, তবে এক্ষেত্রে উইন্ডোজের স্প্লিট স্ক্রিন ফিচার ব্যবহার করা যেতে পারে। উইন্ডোগুলোর টাইটেল বার ধরে মনিটরের চার সাইডে বা চার কোণে নিয়ে গিয়ে হাফ স্ক্রিন বা কোয়াটার স্ক্রিনে খুব সহজেই ফিট করে নেওয়া যায়।

এছাড়া চার্টের ক্ষেত্রে একাধিক উইন্ডো ব্যবহার না করে একটা চার্টের লেআউট অপশন থেকে বিভিন্ন মাল্টি চার্ট লেআউট সিলেক্ট করে একটা উইন্ডোর মধ্যেই অনেকগুলো চার্ট দেখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

মাল্টি চার্ট লেআউট অপশন
মাল্টি চার্ট লেআউট অপশন

একটা কম্পিউটার (সিপিইউ) -এর  সাথে কিভাবে একাধিক মনিটর লাগানো যেতে পারে?

কানেক্ট করা

এমনিতে সাধারণত সব সিপিইউ এর পিছনে (মাদারবোর্ডে) এইচডিএমআই পোর্ট, ডিসপ্লে পোর্ট, ডিভিআই পোর্ট, ভিজিএ পোর্ট, ইউএসবি সি পোর্ট ইত্যাদির মধ্যে দুটো থেকে তিনটে পোর্ট থাকেই। ওই পোর্ট গুলো ব্যবহার করে আলাদা কোনো কিছু ছাড়াই সরাসরি দুটো থেকে তিনটে মনিটর সব কম্পিউটারের সাথেই কানেক্ট করা যায়।

সিপিইউ এর পিছনে যতগুলো পোর্ট থাকে তার থেকে বেশি মনিটর কানেক্ট করতে হলে গ্রাফিক্স কার্ড লাগানোর দরকার পড়ে।

ল্যাপটপের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ল্যাপটপেও সাধারণত অতিরিক্ত দুটো মনিটর লাগানো যায়-ই। আর দুটো লাগালেই ল্যাপটপের ক্ষেত্রে মোট ৩টে স্ক্রিন হয়ে যায়।

সাজানো

মনিটরগুলো কিভাবে সাজালে ভালো হবে সেটা যে যার ব্যক্তিগত পছন্দ। দুটোর ক্ষেত্রে সাধারণত পাশাপাশি বসিয়ে বা একটা টু ইন ওয়ান স্ট্যান্ডে মাউন্ট করে ব্যবহার করা হয়। কেউ কেউ অবশ্য উপর নিচে সেট করাও পছন্দ করে। তিনটের ক্ষেত্রে ৩টেই পাশাপাশি বা দুটো পাশাপাশি এবং একটা উপরে এই সেট আপে ব্যবহার করা হয়। চারটের ক্ষেত্রে দুটোর ওপরে দুটো; ছটার ক্ষেত্রে তিনটের ওপরে তিনটে বা দুটোর ওপরে দুটো এবং দু সাইডে দুটো লম্বালম্বি হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

উইন্ডোজ সেটিংস্‌

মনিটর কানেক্ট করার পর উইন্ডোজ ডিসপ্লে সেটিংস থেকে ‘এক্সটেন্ড দিজ ডিসপ্লেস’ সিলেক্ট করতে হয়। তাহলেই সব মনিটর গুলো একসাথে ব্যবহার করার জন্য রেডি হয়ে যায়। এরপর বাস্তবে ওগুলোর পজিশনের সাথে সেটিংসে ওগুলোর পজিশন ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করে ম্যাচ করে নিতে হয়। তারপরই মাউস পয়েন্টার একটা থেকে অন্যতে নিয়ে গিয়ে কাজ করা যায়।

সেটিংস-এর এই জায়গা থেকেই কোন মনিটরটা মেইন ডিসপ্লে করা হবে সেটাও বেছে নেওয়া যায়। আর কোনোটা লম্বালম্বি ব্যবহার করতে চাইলে সেটিংস-এ সেই মনিটর সিলেক্ট করে ডিসপ্লে ওরিয়েন্টেশন থেকে ওরিয়েন্টেশন চেঞ্জ করে পোর্ট্রেট করে নিতে হয়।

আদর্শ মনিটরের স্পেসিফিকেশন

এটাও অনেকটাই ব্যাক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভর করে, তবুও সাধারণভাবে যা প্রচলিত তা হচ্ছে,

আরও পড়ুনঃ  ভারতীয় শেয়ার বাজারের সবথেকে বড় 10 টা পাবলিক কোম্পানি - মার্কেট ক্যাপের ভিত্তিতে

সাইজ

সংখ্যায় বেশী হলে খুব বড় বড় মনিটর দরকার নেই। ৩ টে বা তার বেশী মনিটর হলে ২৪-২৮ ইঞ্চি যথেষ্ট। ২ টো হলে ২৮ থেকে ৩২ ইঞ্চির ২ টো পাশাপাশি রাখা খারাপ নয়। অনেকে আবার ২৯ ইঞ্চির দুটো আলট্রা ওয়াইড মনিটর পেয়ার করাও পছন্দ করে।

রেজোলিউশন

ট্রেডিং-এর ক্ষেত্রে রেজোলিউশন বেশি হওয়াটা দরকারি। কমপক্ষে ২কে থেকে ৪কে রেজোলিউশন হলে কাজের সুবিধা হয়।

অন্যান্য বৈশিষ্ট্য

এছাড়া ওয়াল মাউন্টের ব্যবস্থা আছে কিনা এবং কানেক্ট করার জন্য কি কি পোর্ট আছে (নিজের সিপিইউ-এর সাথে ম্যাচিং) সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

কতগুলো মনিটর ব্যবহার করলে ট্রেডিং-এ সফল হওয়া যায়?

আসলে কতগুলো মনিটর ব্যবহার করলে সফল ট্রেডার হওয়া যাবে বা প্রকৃতপক্ষে কতগুলো দরকার সেটা আল্টিমেটলি নিজের পছন্দের উপর নির্ভর করছে। কতটা স্ক্রিন স্পেস দরকার সেটা যে যার ট্রেডিং স্টাইল-এর উপর নির্ভর করে। আর তার ওপর ভিত্তি করেই কতগুলো স্ক্রিন দরকার সেটা নির্ধারণ করতে হয়।

সাধারণত যত ফাস্ট ট্রেড করা হয়, বাজারের অনেক ছোট ছোট অ্যাক্টিভিটির উপর ততো পুঙ্খানুপুঙ্খ নজর রাখতে অনেক স্ক্রিন স্পেসের দরকার পড়ে। আবার কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ ব্যাপী স্লো সুইং ট্রেডিং-এর ক্ষেত্রে একটাতেও কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়।

আবার যারা অনেক শেয়ার বা অনেক ইন্সট্রুমেন্টের উপর ট্রেড করে তাদের ক্ষেত্রে বেশি মনিটর প্রয়োজন হওয়াই স্বাভাবিক। আর যারা ডেরিভেটিভ ট্রেড করে বা একটা দুটো ইনস্ট্রামেন্টের উপরেই ফোকাস করে তাদের ক্ষেত্রে খুব বেশি মনিটরের প্রয়োজন হয় না।

যত বেশি মনিটর একসাথে ব্যবহার করা হয় তত বেশি ইনফরমেশনের ওপর একসাথে নজর রাখতে হয়। এবং কাজটা মোটেও সহজ নয়। অনেক সময় অতিরিক্ত ইনফরমেশন অনভিজ্ঞদের কনফিউজ করে দিতে পারে। তাই নতুন ট্রেডিং শুরু করার সময় দুটো থেকে তিনটেই যথেষ্ট।

আর শেয়ার বাজারে সফলতা মনিটরের সংখ্যা নয়, সেগুলো যে ব্যবহার করে তার ওপর নির্ভর করে! একজন অভিজ্ঞ ট্রেডার একটা নিয়ে যা করতে পারবে একজন অনভিজ্ঞ দশটা নিয়েও সেটা করতে পারবে না!

শেষ কথা

নতুন ট্রেডারদের জন্য আমার পরামর্শ হচ্ছে, ট্রেডিং শুরু করার সময় যেহেতু নিজের পকেট থেকে টাকা ইনভেস্ট করতে হয়, তাই অনেকগুলো মনিটরের পেছনে শুরুতেই খামোকা টাকা নষ্ট না করাই উচিৎ। মনিটরের সংখ্যা নিয়ে মাথা খারাপ না করে ২ টো দিয়ে কাজ শুরু করে ট্রেডিং প্রসেসটা শেখার ওপর ফোকাস করলে বেশী কাজ দেবে। আর ট্রেডিং-টা শেখা হয়ে গেলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে কেউ বাধা দিচ্ছে না!

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন। 🙂


প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

মোবাইল থেকে ট্রেড করা যেতে পারে কি?

মোবাইল থেকে ট্রেড করা অসম্ভব নয়, তবে এটা রেকমেন্ডেড নয়। ওইটুকু স্ক্রিনে অ্যাক্টিভ ট্রেডিং-এর জন্য প্রয়োজনীয় এত কিছু ইনফরমেশনের উপর নিরবিচ্ছিন্ন নজর রাখা সম্ভব নয়।

অনেক অনেক মনিটর লাগালে কি ট্রেড করা সহজ হয়ে যায়?

সেটা যে ট্রেড করছে তার উপর নির্ভর করছে। অনেকগুলো মনিটর কারো জন্য সাহায্যকারী হলেও এত এত ইনফরমেশন কারো জন্য সুবিধার বদলে অসুবিধার কারণ হতে পারে।

একটা বড় সাইজের স্ক্রিন অনেকগুলো ছোট স্ক্রীনের বিকল্প হতে পারে কি ?

হ্যাঁ।


মন্তব্য করুন