শেয়ার বাজারের বহুল ব্যবহৃত 40+ টি গুরুত্বপূর্ণ টার্ম বা পরিভাষা ও তাদের অর্থ

4.4/5 - (5 জন রেটিং করেছেন)

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বা ট্রেড করতে গেলে কিছু কিছু টার্ম বা পরিভাষা যেমন ইকুইটি, স্টক, বুল মার্কেট, বিয়ার মার্কেট, মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন, আইপিও, লিমিট অর্ডার, মার্কেট অর্ডার, বিড, আস্ক, ভোলাটিলিটি, লিকুইডিটি, লং, শর্ট, অ্যাভারেজিং, ভলিউম, স্কয়ার অফ ইত্যাদি বারে বারে আমাদের সামনে আসতে থাকে। আর যত গভীরে যাওয়া যায় এগুলো এবং আরও নতুন নতুন পরিভাষার ব্যবহার উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। শেয়ার বাজারে আগত নতুনদের এই পরিভাষাগুলোর সাথে পরিচিতি থাকেনা বলেই এই বাজার বড় জটিল মনে হয়।

এই বাজার সংক্রান্ত যেকোনো কিছু শিখতে বা রিসার্চ করতে গেলে দেখা যায় এই বিষয়ের যেকোনো বই, আর্টিকেল, ভিডিও বা খবরে বারে বারে এই সমস্ত পরিভাষাগুলোর ব্যবহার হয়।

ইংরাজি ভাষার বদলে বাংলা ভাষায় শেয়ার বাজার শেখার ক্ষেত্রে বড় একটা সমস্যা হচ্ছে এই ধরণের ইংরাজি টার্ম গুলোর বেশিরভাগেরই উপযুক্ত কোনো বাংলা বিকল্প হয় নেই বা থাকলেও সেটা ব্যবহার হয়না। তাই এই টার্ম বা পরিভাষাগুলোকে ইংরাজিতে রেখেই এর অর্থটা বাংলায় বুঝে নিতে হয়।

শেয়ার বাজারের গভীরে যেতে হলে বা এখানে সফল ১০%-এর মধ্যে আসতে হলে সবার প্রথমে এই পরিভাষাগুলোর অর্থ বোঝা খুবই প্রয়োজনীয়। তাই এই নিবন্ধে এমনই ৪০ টা টার্ম বা পরিভাষা এবং তাদের অর্থ তুলে ধরলাম যাতে এই বাজারের দুনিয়ায় পথচলা শুরু করার সময় নিজেকে পথহারা এক পথিক না মনে হয়!

সূচীপত্র দেখান

কোম্পানি, শেয়ার ও বাজার সংক্রান্ত পরিভাষা

শেয়ার বা স্টক বা ইকুইটি

শেয়ারের আক্ষরিক বাংলা অর্থ অংশ। শেয়ার বাজারে শেয়ার মানে হচ্ছে লিস্টেড কোম্পানির মালিকানার অতি ক্ষুদ্র একটা অংশ। একটা কোম্পানির শেয়ার কেনা মানে আসলে সেই কোম্পানির অংশীদার হওয়া। একে অনেকসময় স্টক বা ইকুইটি-ও বলা হয়।

আইপিও

ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিও হচ্ছে এমন একটা পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটা যোগ্য কোম্পানি তাদের মালিকানার কিছু অংশ ইউনিট শেয়ারে ভেঙে যেকোনো একটা এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রথমবারের জন্য শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করতে পারে। এর বদলে ব্যবসার প্রয়োজনে তারা বাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহ করতে পারে।

লিস্টেড কোম্পানি

যেসব কোম্পানি তাদের মালিকানার কিছু অংশ শেয়ার বাজারে সবার কেনাবেচার উদ্দেশ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করেছে তাদের লিস্টেড কোম্পানি বলে।

প্রাইভেট ও পাবলিক কোম্পানি

যে সমস্ত কোম্পানির মালিকানা কেবলমাত্র সেই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা, ম্যানেজমেন্ট এবং সীমিত কিছু প্রাইভেট ইনভেস্টারদের গ্রুপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে সে সমস্ত কোম্পানিকে প্রাইভেট কোম্পানি বলে।

আর যে সমস্ত কোম্পানি তাদের মালিকানার কিছু অংশ (কখনও বা সমস্তটাই) আপামর জনসাধারণের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে তাদের বলে পাবলিক কোম্পানি। আইপিও-র মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে লিস্টেড সমস্ত কোম্পানিই পাবলিক কোম্পানি।

শেয়ার বাজার

যেখানে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের শেয়ার তালিকাভুক্ত করে এবং সেই শেয়ারের কেনাবেচা হয়। এর আরেক নাম স্টক মার্কেট। বাংলায় অনেক সময় একে পুঁজিবাজার-ও বলে।

এই বাজারের দুটো বিভাগ, যথাঃ প্রাইমারি মার্কেট আর সেকেন্ডারি মার্কেট। কোনো কোম্পানির আইপিও হওয়ার সময় প্রথমবার সরাসরি কোম্পানির তরফ থেকে হবু শেয়ারহোল্ডাররা যেখানে শেয়ার কেনেন সেটাকে প্রাইমারি মার্কেট বলে আর সেকেন্ডারি মার্কেটে বর্তমান শেয়ারহোল্ডার এবং নতুন ক্রেতারা তাদের নিজেদের মধ্যে ওই শেয়ার বেচাকেনা করতে পারে। আমরা শেয়ার বাজার বলতে যা বুঝি সেটা আসলে এই সেকেন্ডারি মার্কেট-ই।

আরও পড়ুনঃ  ব্যাপকভাবে সফল ট্রেডারদের 7 অভ্যাস। জানতে হবে নয়তো পিছিয়ে পড়তে হবে

এক্সচেঞ্জ

শেয়ার বাজারে লিস্তেড মানে আসলে এক্সচেঞ্জে লিস্টেড। শেয়ার বাজারে যা কিছু কর্মকাণ্ড হয় সেটা আসলে কোনো একটা এক্সচেঞ্জেই হয়। লিস্টিং, ট্রেডিং ও ইনভেস্টিং-এর জন্য প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে এক্সচেঞ্জ। কোম্পানির শেয়ার ছাড়াও বন্ড ও কমোডিটিও এখানে কেনাবেচা হয়।

ভারতীয় শেয়ারবাজারের সবথেকে বড় দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ হলো এনএসই বা ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বিএসই বা বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ। কমোডিটি ট্রেডিং-এর সব থেকে বড় এক্সচেঞ্জ হলো এমসিএক্স বা মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ। 

শেয়ারহোল্ডার

যে কেউ যেকোনো কোম্পানির শেয়ার কিনলেই সে হয়ে যায় সেই কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার।

প্রোমোটার

একটা কোম্পানির হর্তাকর্তা-কেই সেই কোম্পানির প্রোমোটার বলে। এরাই একটা পাবলিক কোম্পানির কন্ট্রোলিং শেয়ারহোল্ডার। একটা কোম্পানির কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকে এদেরই হাতে।

ব্রোকার

শেয়ার বাজারে অংশগ্রহণকারীদের শেয়ার কেনাবেচা করতে মধ্যস্থতা করে ব্রোকার। মানে শেয়ার ক্রেতার বাই অর্ডার এবং বিক্রেতার সেল অর্ডার এক্সচেঞ্জে পাঠায় ব্রোকার। কেনাবেচার সম্পাদনা আসলে এক্সচেঞ্জে হলেও সেটা ব্রোকার ছাড়া সরাসরি করা যায় না।

ভারতবর্ষে তিনশোরও বেশি স্টক ব্রোকার আছে। এর মধ্যে সবথেকে বড় এবং সুপরিচিত কয়েকটা নাম হলো জিরোধা, আপস্টকস, আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজ, এইচডিএফসি সিকিউরিটিজ, ৫পয়সা, গ্রো, অ্যাঞ্জেল ওয়ান, শেয়ারখান ইত্যাদি।

ডিম্যাট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট

ব্রোকার দ্বারা প্রোভাইড করা শেয়ার কেনাবেচা করার কাস্টমার ফেসিং প্ল্যাটফর্ম হল ডিম্যাট কাম ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট। এখন এই দু ধরনের অ্যাকাউন্ট একসাথেই প্রোভাইড করা হয়। ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ব্যাংক থেকে ট্রান্সফার করা ফান্ড ষ্টোর থাকে এবং এই অ্যাকাউন্ট থেকেই শেয়ার কেনা বেচা করার অর্ডার প্লেস করা যায়। আর ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের মধ্যে শেয়ার বা অন্যান্য সিকিউরিটি ডিজিটাল উপায়ে স্টোর থাকে।

ডিপোজিটরি

ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে স্টোর করা শেয়ার আসলে যায় ডিপোজিটরের কাছে। এক্সচেঞ্জ এবং ব্রোকারের সাথে কাজ করে চলা আলাদা একটা সংস্থা হচ্ছে ডিপোজিটরি। ভারতের দুই ডিপোজিটরি হল এনএসডিএল আর সিডিএসএল।

ইনডেক্স

নির্দিষ্ট থিম বা ক্রাইটেরিয়ার উপর ভিত্তি করে কিছু শেয়ার বেছে নিয়ে সেই সমস্ত শেয়ারের নিয়মমাফিক সমষ্টিগত মানের উপর বিশেষ গাণিতিক সুত্র প্রয়োগ করে ইনডেক্স তৈরি করা হয়। এই ইনডেক্স সমগ্র শেয়ার বাজার বা এর অন্তর্গত কোনো একটা ক্ষেত্রের সামগ্রিক ওঠানামা নির্দেশ করে। ভারতের সবথেকে বেশি ব্যবহৃত সামগ্রিক বাজারের ইনডেক্স হলো নিফটি ৫০ এবং সেন্সেক্স। 

কোম্পানির আকার সংক্রান্ত পরিভাষা

মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন

একটা কোম্পানির সমস্ত শেয়ারের সমষ্টিগত মান-কে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বা ছোট করে মার্কেট ক্যাপ বলে। একটা শেয়ারের দামের সাথে শেয়ারের মোট সংখ্যাকে গুন করে এটা বের করা হয়। একটা কোম্পানি কতটা বড় বা ছোট সেটা বোঝার জন্য এটা ব্যবহার করা হয়।

কোনো একটা কোম্পানির মার্কেট ক্যাপ যদি ২০০০০ কোটির বেশি হয় তাহলে সেই কোম্পানিকে বলা হয় লার্জ-ক্যাপ, ৫০০০ – ২০০০০ এর মধ্যে হলে মিড-ক্যাপ আর ৫০০০ কোটির নীচে হলে বলা হয় স্মল-ক্যাপ

ব্লু চিপ স্টক

লার্জ-ক্যাপ কোম্পানি গুলোর মধ্যে আবার সবথেকে বড়, মার্কেট লিডার, সবথেকে রেপুটেড, এবং ভালো ট্র্যাক রেকর্ড আছে এমন কোম্পানিগুলোকে ব্লু চিপ স্টক বলে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, টিসিএস, আইটিসি ইত্যাদি এ ধরনের কয়েকটা স্টকের উদাহরণ। ব্লু চিপ স্টকে বিনিয়োগের ঝুঁকি সবথেকে কম হয়।

পেনি স্টক

ব্লু চিপ স্টকের উল্টো হলো পেনি স্টক। এগুলো সাধারণত খুব কম মার্কেট ক্যাপের খুব ছোট ছোট কোম্পানি এবং এদের শেয়ারের দামও খুব কম হয়। সাধারণত যে সমস্ত স্টকের দাম ১০ টাকার নিচে হয় সেগুলোই পেনি স্টক হিসাবে ধরা হয়। এধরনের স্টকে বিনিয়োগ সব থেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। 

আরও পড়ুনঃ  বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস কিভাবে ব্যবহার করে?

বাজারের গতিবিধি সংক্রান্ত পরিভাষা

বুল মার্কেট (বুলিস) বা আপ ট্রেন্ড

লম্বা সময় ধরে যখন বাজার মানে ইনডেক্স এবং ওভারঅল বেশীরভাগ শেয়ারের দাম সামগ্রিকভাবে ক্রমাগত বাড়তে থাকে তখন বুল মার্কেট চলছে বলা হয়। এ সময়ে বাজার উপর দিকে যায় বলে আপ ট্রেন্ড চলছে-ও বলে

বিয়ার মার্কেট (বিয়ারিস) বা ডাউন ট্রেন্ড

বুল মার্কেট বা আপ ট্রেন্ডের উল্টো হলো বিয়ার মার্কেট বা ডাউন ট্রেন্ড। এ সময় সামগ্রিকভাবে বাজার নামতে থাকে।

সাইডওয়েজ ট্রেন্ড

বাজারের গতিবিধি যখন না উপর দিকে না নিচের দিকে, তখন সেটাকে বলে সাইডওয়েজ ট্রেন্ড।

র‍্যালি

বাজারের কোনো শেয়ারের দাম (বা ইনডেক্স) খুব কম সময়ের মধ্যে যদি খুব তাড়াতাড়ি বাড়তে থাকে তখন সেটাকে র‍্যালি বলা হয়।

ক্র্যাশ

র‍্যালির উল্টো ক্র্যাশ। মানে এ সময়ে শেয়ারের দাম (বা ইনডেক্স) খুব কম সময়ের মধ্যে খুব তাড়াতাড়ি পড়তে থাকে।

অর্ডার সংক্রান্ত পরিভাষা

বাই ও সেল অর্ডার

শেয়ার বা অন্য কোনো ইন্সট্রুমেন্ট কিনতে হলে ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে পছন্দের ইন্সট্রুমেন্টের নাম বেছে নেওয়ার পর বাই অর্ডার দিতে বা প্লেস করতে হয় আর বিক্রি করতে হলে সেল অর্ডার প্লেস করতে হয়। 

মার্কেট অর্ডার

অর্ডার করার সময় শেয়ারের দাম যা চলছে সেই দামেই কেনা বা বেচার অর্ডার দেওয়াকে মার্কেট অর্ডার বলে।

লিমিট অর্ডার

বাজারে শেয়ারের দাম যাই চলুক না কেন নিজের খুশি মত দামে শেয়ার কেনা বা বেচার অর্ডার  দেওয়াকে লিমিট অর্ডার বলে।

বিড

শেয়ার কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতা সর্বোচ্চ যে দাম দিতে প্রস্তুত বা যে দামে শেয়ার কিনতে ইচ্ছুক সেটাকেই বলে বিড প্রাইস।

আস্ক

শেয়ার বিক্রেতা সর্বনিম্ন যে দামে শেয়ার বিক্রি করতে ইচ্ছুক সেটাকেই বলে আস্ক প্রাইস।

স্প্রেড

বাজারে ট্রেড চলাকালীন সময়ে সাধারণত কোনো একটা শেয়ারের বিড প্রাইস আর আস্ক প্রাইসের মধ্যে একটা তফাৎ থাকে আর এটাকেই বলে স্প্রেড। শেয়ারের চাহিদা ও যোগানের উপর এর পরিমাণ নির্ভর করে।

লং পজিশন

শেয়ারের দাম বাড়বে এই আশায় সাধারণভাবে শেয়ার কেনা-কে বলে লং পজিশন নেওয়া। ইনভেস্ট করার উদ্দেশ্যে এবং বাজার বা কোনো শেয়ার সম্বন্ধে বুলিস হলে তখন লং পজিশন নেওয়া হয়। 

শর্ট পজিশন 

শেয়ারের দাম কমবে মনে হলে বা বাজার বিয়ারিশ হলে কেনার আগে (ব্রোকারের থেকে শেয়ার ধার নিয়ে) বেচার অর্ডার প্লেস করাকে বলে শর্ট পজিশন নেওয়া বলে। এক্ষেত্রে পরে সেই শেয়ার কিনে ওই ধার মিটিয়ে দিতে হয়।

ট্রেডিং-এর ক্ষেত্রে এরকম করা সম্ভব। তবে ভারতীয় শেয়ার বাজারে শেয়ারের ক্ষেত্রে শর্ট পজিশন নিলে সেই দিনের মধ্যেই শেয়ার কিনে পজিশন ক্লোজ করতে হয়। নিজে না ক্লোজ করলে দিন শেষ হওয়ার আগে অটোমেটিক ক্লোজ হয়ে যায়।

তবে ডেরিভেটিভ ট্রেডিং-এর ক্ষেত্রে কয়েক দিন যাবত এ ধরনের পজিশন ক্যারি করা যায়।

স্কয়ার অফ

বর্তমান পজিশন ক্লোজ করাকে বলে স্কয়ার অফ করা। মানে লং পজিশন স্কয়ার অফ করতে হয় শেয়ার বেচে দিয়ে আর শর্ট পজিশন স্কয়ার অফ করতে হয় শেয়ার কিনে নিয়ে।

স্টপ লস অর্ডার

এটা একটা বিশেষ ধরনের অর্ডার যার সাহায্যে পূর্ব নির্ধারিত দামের নিচে দাম নেমে গেলে শেয়ার বিক্রি করা যায় কিংবা পূর্বনির্ধারিত দামের উপরে দাম উঠে গেলে শেয়ার কেনা যায়।

লং ও শর্ট পজিশন নেওয়ার পর শেয়ারের দাম প্রত্যাশিত দামের উল্টো দিকে গেলে লস সীমিত করতে প্রধানত এর ব্যবহার করা হয়। লং পজিশনের ক্ষেত্রে শেয়ারের দাম পূর্ব নির্ধারিত দামের নিচে নেমে গেলে আর শর্ট পজিশনের ক্ষেত্রে শেয়ারের দাম পূর্ব নির্ধারিত দামের উপরে উঠে গেলে পজিশন অটো স্কয়ার অফ করতে স্টপ লস অর্ডার ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ভারতীয় শেয়ার বাজারের সবথেকে বড় 10 টা পাবলিক কোম্পানি - মার্কেট ক্যাপের ভিত্তিতে

তবে একই লজিক কাজে লাগিয়ে নতুন পজিশন নিতেও স্টপ লস অর্ডারের ব্যবহার করা যেতে পারে।

অ্যাভারেজিং ডাউন

একটা পজিশন নেওয়ার পর পরিস্থিতি প্রত্যাশার উল্টোদিকে গেলে আরো পজিশন যোগ করে পজিশন সাইজ বাড়িয়ে পজিশনের গড় দাম কমিয়ে আনা-কে অ্যাভারেজিং ডাউন বলে।

ডে অর্ডার

বাই বা সেল অর্ডার প্লেস করার সময় সেটার ভ্যালিডিটি যদি ডে বা দিন বেছে নেওয়া হয় তাহলে সেই অর্ডারকে ডে অর্ডার বলে।

ভলিয়্যুম

একটা নির্দিষ্ট সময়ে মোট যত শেয়ারের কেনাবেচা হয় তাকে ভলিয়্যুম বলে।

ভোলাটিলিটি 

এই শব্দটার আক্ষরিক বাংলা অর্থ অস্থিরতা। একটা নির্দিষ্ট সময়ে শেয়ারের দাম বাড়া বা কমার হারকে ভোলাটিলিটি বলে। শেয়ারের দাম যত মুহুর্মুহু যত বেশি পরিমাণে বাড়া-কমা হয় তার ভোলাটিলিটি তত বেশি হয়, আর দামের পরিবর্তনের হার যত কম হয় ভোলাটিলিটিও তত কম হয়।

বিটা

সমগ্র বাজারের তুলনায় একটা শেয়ারের ভোলাটিলিটিকে ঐ শেয়ারের বিটা বলে। বাজারের বিটা ১ ধরা হয়। একটা শেয়ারের বিটা যদি ১.৫ হয় তাহলে বোঝায় বাজারের ১ পয়েন্ট মুভমেন্টের জন্য ওই শেয়ারের ১.৫ পয়েন্ট মুভমেন্ট হয়। অর্থাৎ ওটা বাজারের থেকে বেশি ভোলাটাইল।

আপার ও লোয়ার সার্কিট

একদিনের মধ্যে কোনো একটা শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ যত বেশি হতে পারে সেটাকে আপার সার্কিট বলে আর সর্বনিম্ন যত কমে নামতে পারে সেটাকে লোয়ার-সার্কিট বলে। আগের দিনের শেয়ারের দামের উপর ভিত্তি করে এটা নির্ধারণ করা হয়।

ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিং

এক দিনের ভেতরেই শেয়ার কেনা ও বেচা করলে তাকে ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিং বলে।

সিকিউরিটি সংক্রান্ত পরিভাষা

পোর্টফোলিও

নিজের বা কোনো সংস্থার কালেকশনে বা হোল্ডিং-এ থাকা (কেনা) বাজারের সব ধরনের অ্যাসেট বা সিকিউরিটি যেমন শেয়ার, ফান্ড, বন্ড ইত্যাদির সমষ্টিকে পোর্টফোলিও বলে।

বোনাস শেয়ার

অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই কোনো কোম্পানির বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের নির্দিষ্ট অনুপাতে অতিরিক্ত শেয়ার ইস্যু করাকে বোনাস শেয়ার দেওয়া বলে। বোনাস শেয়ার ইস্যু করলে শেয়ারের সংখ্যা বাড়ে এবং দাম কমে।

স্টক স্প্লিট

লিকুইডিটি তথা শেয়ারের সংখ্যা বাড়ানো এবং শেয়ারের দাম কমানোর উদ্দেশ্যে যখন একটা শেয়ারকে স্প্লিট করে বা ভেঙে একাধিক শেয়ার তৈরি করা হয় তখন তাকে স্টক স্প্লিট বলে। এতে শেয়ারের দাম কমলেও কোম্পানির মার্কেট ক্যাপ বা অন্য কোনো কিছুরই কোনো পরিবর্তন হয় না।

ডিভিডেন্ড

কোম্পানির লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের বিতরণ করাকে ডিভিডেন্ড দেওয়া বলে। 

বন্ড

বন্ড এক ধরনের ডেট বা ঋণ সম্পর্কিত সিকিউরিটি। বিভিন্ন কোম্পানি (কখনও সরকার) মাঝে মাঝে এই ধরনের ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটি ইস্যু করে তাদের কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে। এগুলো কেনা মানে আসলে ওই সমস্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোকে টাকা ধার দেওয়া। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায় আর ম্যাচুরিটির পর আসল ফেরত পাওয়া যায়।

ডেরিভেটিভ সংক্রান্ত পরিভাষা

ফিউচার, অপশন ও ডেরিভেটিভ সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষার ব্যাপারে জানতে এই লিঙ্কে যান।

শেষ কথা

এই তালিকা শেষ হওয়ার নয়। ভবিষ্যতে আরো অন্যান্য প্রয়োজনীয় টার্ম বা পরিভাষা এখানে সংযোজন করব। নতুনদের শেয়ার বাজার শেখার ক্ষেত্রে এই তালিকা অনেকটাই কাজ দেবে আশা রাখি। সুবিধার জন্য এই পেজটা বুকমার্ক করে রাখতে পারেন। এখানে দেওয়া পরিভাষা বাদে অন্য কোনো পরিভাষার অর্থ জানতে চাইলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।

আজ তাহলে এখানেই শেষ করি। ভালো থাকবেন।

মন্তব্য করুন