সবথেকে সেরা 10+ চার্ট প্যাটার্ন। এগুলো না জেনে শেয়ার ট্রেডিং সম্ভব নয়।

5/5 - (6 জন রেটিং করেছেন)

শেয়ার বাজারে শেয়ারের দাম কখনো সরলরেখায় চলে না, চলতে পারেও না। সময়ের সাথে সাথে দাম কখনো চড়ে তো কখনোও পড়ে। আর এই ওঠানামার ইতিহাস খোদাই হয়ে থাকে শেয়ারের দামের চার্টে।

শেয়ারের দামের হিস্টরিক্যাল চার্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কখনো কখনো এই দামের পরিবর্তন কিছু বিশেষ প্যাটার্ন ফলো করে। আর ঐগুলোই টেকনিক্যাল এনালাইসিসের সময় ট্রেডাররা ব্যবহার করে আগামীতে শেয়ারের দামের সম্ভাব্য গতিবিধি আন্দাজ করে সেইমতো ট্রেড প্ল্যান করতে।

শেয়ার ট্রেডিং-এ ডিমান্ড-সাপ্লাই জোন, সাপোর্ট-রেজিস্ট্যান্স লাইন, ট্রেন্ড লাইন, ভলিউম, বিভিন্ন ইন্ডিকেটর ইত্যাদির পাশাপাশি কিছু বিশেষ চার্ট-প্যাটার্নও খুবই কার্যকরী হয়।

আর এই নিবন্ধে আমরা এমনই কিছু ক্লাসিক্যাল চার্ট প্যাটার্নের বিষয়ে আলোচনা করব।

চার্ট প্যাটার্ন তৈরি কেন হয়?

শেয়ার বাজারে শেয়ারের দামই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, সবার উপরে। আর এই দাম নির্ভর করে শেয়ারের ক্রেতা ও বিক্রেতা কখন কত দামে কেনা-বেচা করতে সম্মত হচ্ছে তার উপর। অর্থাৎ অন্যভাবে বললে চাহিদা ও যোগানই শেয়ারের দাম কত হবে বা কোন দিকে যাবে তা নির্ধারণ করে দেয়।

সাধারণ বাজারের মতোই যখন যোগানের থেকে শেয়ারের চাহিদা বেশি থাকে তখন ক্রেতারা আরো আরো বেশি দাম দিয়ে তা কিনতে রাজি হয়ে যায়। ফলে দাম উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। আর, এর উল্টোটা হলে মানে চাহিদার থেকে যোগান বেশি থাকলে বিক্রেতারা যে যা দাম পায় সেই দামেই তাদের কাছে থাকা শেয়ার ছেড়ে দিতে চায়। ফলে দাম আবার পড়ে যায়। দামের এই ওঠানামার চক্র চলতেই থাকে আর চলতেই থাকে। এবং এটাই শেয়ার বাজারের সর্বৈব সত্যি।

আবার কখনো বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং শেয়ারের বিশেষ বিশেষ দামের লেভেলে ক্রেতা-বিক্রেতারা সমষ্টিগতভাবে এক এক রকম প্রতিক্রিয়া দেখায় যা চাহিদা-যোগানের উপর বিশেষভাবে প্রভাব ফেলে। শেয়ারের হিস্টোরিক্যাল দামগুলো নিয়ে যখন চার্টে প্লট করে ক্যান্ডেল স্টিক বা অন্য যেকোনো ধরনের চার্ট বানানো হয়, তখন দেখতে পাওয়া যায় ট্রেডারদের ওই প্রতিক্রিয়া গুলো চার্টের ওপর বিশেষ প্যাটার্নের আকারে ফুটে ওঠে।

আর একবার দুবার নয়, বা এক দুজায়গায় নয়, দেখা যায় বারে বারে বিভিন্ন জায়গায় ওগুলোর পুনরাবৃত্তিও ঘটে। আর পুনরাবৃত্তি ঘটে বলেই ট্রেডিং-এর সময় লাইভ মার্কেটে যখন আগে ঘটা কোনো প্যাটার্ন আবার তৈরি হতে দেখা যায় তখন তা থেকে তারপরে কি হতে পারে তার একটা পূর্বাভাস পাওয়া যায়। চার্ট প্যাটার্ন তথা প্যাটার্ন ট্রেডিং-এর পিছনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য এটাই। 

চার্ট প্যাটার্ন-এর বৈশিষ্ট্য

  • সব প্যাটার্নই কমপক্ষে ২ টো সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স ট্রেন্ডলাইন (সরল কিংবা বক্র) সহযোগে তৈরি হয়।
  • সব ক্ষেত্রেই একটা এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট থাকে। এক্সিট পয়েন্টে প্যাটার্ন শেষ হয় ব্রেক আউটের (কিংবা ব্রেকডাউনের) মাধ্যমে।
  • সাধারণত সমস্ত প্যাটার্নের কনসলিডেশনের সময় ভলিউম কমে এবং ব্রেক আউটের সময় ভলিউম বাড়ে। বিষয়টাকে উল্টোদিক দিয়ে ভাবলে, যখন ব্রেকআউটের সময় ভউলিম-ও বেশি থাকে তখন সেটাকে ব্রেকআউটের শক্তিশালী সিগন্যাল হিসাবে ধরা হয়।
  • যেকোনো টাইম ফ্রেমের চার্টেই এগুলো দেখা যায়।
  • সাধারণত সব প্যাটার্নেরই বুলিশ এবং বিয়ারিশ ভার্সন হয়। বিয়ারিশ ভার্সন বুলিশ ভার্সনের উল্টো হয়।

চার্ট প্যাটার্নের প্রকার

তৈরি হওয়ার আগের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্যাটার্ন তৈরি হওয়ার পর দাম কোন দিকে যেতে পারে তার ওপর ভিত্তি করে এগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যথাঃ

  1. কন্টিনিউয়েশন চার্ট প্যাটার্ন
  2. রিভার্সাল চার্ট প্যাটার্ন

দুই ক্ষেত্রেই সাধারণত যত লম্বা সময় ধরে এগুলো তৈরি হয় এবং এর মধ্যে দামের পরিবর্তন যত বড় রেঞ্জের মধ্যে হয়, ব্রেকআউট হওয়ার পরের মুভমেন্টটাও তত বড় হয়।

আরও পড়ুনঃ  ব্যাপকভাবে সফল ট্রেডারদের 7 অভ্যাস। জানতে হবে নয়তো পিছিয়ে পড়তে হবে

প্যাটার্ন তৈরি হওয়ার মাঝামাঝি সময়ে ট্রেন্ড বহাল থাকবে নাকি ঘুরে যাবে সেব্যাপারে কিন্তু বোঝা যায় না। তাই প্রধান ট্রেন্ড এবং প্যাটার্নের ট্রেন্ডলাইনগুলোর উপর ভালোভাবে নজর রাখতে হয় আর তার সাথে কোনদিকে ব্রেকাআউট হতে চলেছে সেটা খেয়াল রাখতে হয়। আরও একটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ট্রেন্ড ঘুরে যাওয়ার কোনো পোক্ত সিগন্যাল বা কারণ না থাকলে সাধারণত ট্রেন্ড একই দিকে চলতে থাকে।

বিঃ দ্রঃ এগুলোকে দুই বিপরীত বিভাগে ভাগ করলেও কখনো কখনো বিশেষ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বা ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে এগুলো স্বাভাবিকের উল্টো দিকেও ব্রেকআউট দিতে পারে।

#১ কন্টিনিউয়েশন চার্ট প্যাটার্ন

ইতিমধ্যে বিরাজমান ট্রেন্ডের মাঝে কন্টিনিউয়েশন প্যাটার্ন তৈরি হয়। আর প্যাটার্ন শেষে এগুলো ঐ একই দিকে দামের পরিবর্তনের বা ব্রেকআউটের (কিংবা ব্রেকডাউনের) নির্দেশ করে। অর্থাৎ এগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত আগে ও পরে একই ট্রেন্ড বহাল থাকে বা ট্রেন্ড কন্টিনিউ করে।

তবে যেরকমটা একটু আগেই বলেছি, সবসময় এরকম নাও হতে পারে। কখনো কখনো কন্টিনিউয়েশন প্যাটার্নের ক্ষেত্রেও রিভার্সাল হতে দেখা যায়।

সব থেকে প্রচলিত কন্টিনিউয়েশন প্যাটার্ন গুলো নীচে দেওয়া হলঃ

ফ্ল্যাগ (পতাকা)

#বুলিশ

ফ্ল্যাগ মানে হচ্ছে পতাকা। সাধারণত এ ধরনের প্যাটার্ন তৈরি হয় খুব তাড়াতাড়ি দাম উপর দিকে ওঠার পর। প্রথমত ঝটপট দাম বেড়ে তৈরি হয় পতাকার ডাণ্ডা অংশটা। অতঃপর কনসলিডেশন পর্যায়ে দুটো নিম্নমুখী সমান্তরাল ট্রেন্ড লাইনের মাঝে দাম উপর নিচ করতে করতে (কিছু সময়ের জন্য) পতাকার মতো দেখতে একটা প্যাটার্ন তৈরি হয়।

তারপর একসময় মূল ট্রেন্ডের দিকে অর্থাৎ উপরের দিকে ব্রেকআউটের মাধ্যমে প্যাটার্ন শেষ হয়।

বুলিশ ফ্ল্যাগ প্যাটার্ন
বুলিশ ফ্ল্যাগ

#বিয়ারিশ

এর বিয়ারিশ ভার্সনে ফ্ল্যাগটা উল্টো হয় অর্থাৎ পতাকা ডান্ডার নীচে থাকে আর ঊর্ধ্বমুখী হয়। এবং বিয়ারিশ ট্রেন্ডের কন্টিনিউয়েশন হিসেবে প্যাটার্ন শেষ হয় দাম নীচের দিকে ব্রেকডাউনের মাধ্যমে।

বিয়ারিশ ফ্ল্যাগ প্যাটার্ন
বিয়ারিশ ফ্ল্যাগ

পেন্যান্ট (ছুঁচালো পতাকা)

পেন্যান্ট মানেও এক ধরনের পতাকা। তবে এই পতাকা সাধারণ পতাকার মতো সমান্তরাল লাইনের পতাকা নয়, এই পতাকা ছুঁচালো। ফ্ল্যাগ প্যাটার্নের সঙ্গে এর তফাৎ এটুকুই।

মানে, ফ্ল্যাগের ক্ষেত্রে যেখানে সমান্তরাল দুই ট্রেন্ড লাইনের মধ্যে কনসলিডেশন হয় সেখানে এক্ষেত্রে ট্রেন্ড লাইন দুটো সমান্তরালের বদলে এক জায়গায় মিলে গিয়ে একটা লম্বাকার ত্রিভুজের মতো আকার (পেন্যান্ট বা ছুঁচালো পতাকার মতো) তৈরি করে।

এর বাকি বৈশিষ্ট্য ফ্ল্যাগ প্যাটার্নের মতোই।

বুলিশ পেন্যান্ট প্যাটার্ন
বুলিশ পেন্যান্ট
বিয়ারিশ পেন্যান্ট প্যাটার্ন
বিয়ারিশ পেন্যান্ট

ট্রায়াঙ্গেল (ত্রিভুজ)

এগুলো অনেকটা পেন্যান্টের মতোই, তবে এক্ষেত্রে পতাকার ডাণ্ডা সদৃশ কোনো অংশ থাকেনা। অর্থাৎ, এই প্যাটার্ন তৈরি হওয়ার আগে ঝট করে দাম বাড়া-কমার ঘটনাটা ঘটে না।

পেন্যান্টের সঙ্গে আরও একটা তফাৎ হচ্ছে পেন্যান্ট যেখানে সাধারণত কম সময়ের ব্যবধানে তৈরি হয় সেখানে এগুলো তুলনায় অনেক বেশী সময় ধরে তৈরি হয়।

এগুলো তিন ধরনের হয়। যথাঃ

# বুলিশ অ্যাসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল (আরোহী ত্রিভুজ)

ট্রায়াঙ্গেলের বুলিশ ভার্সন অ্যাসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল। উপরের অনুভূমিক (মেঝের সাথে সমান্তরাল) রেজিস্ট্যান্স ট্রেন্ডলাইন আর নীচের ক্রমবর্ধমান সাপোর্ট ট্রেন্ডলাইনের মাঝে এর ত্রিভুজাকৃতি ক্ষেত্রটা তৈরি হয় কনসলিডেশনের সময় দামের উপরনিচ হয়ে।

কন্টিনিউয়েশন প্যাটার্ন হওয়ায় এগুলো সাধারণত বুলিশ ট্রেন্ডের মাঝে অর্থাৎ দাম যখন উর্ধ্বমুখী তখন তৈরি হয় এবং অন্যান্য কন্টিনিউয়েশন প্যাটার্নের মতই উপরের দিকে ব্রেকআউট দিয়ে শেষ হয়।

এগুলো সব সময়েই বুলিশ হিসাবে ধরা হয়। তাই কখনো বিয়ারিশ ট্রেন্ড অর্থাৎ দাম যখন নিম্নমুখী তখনও যদি এর আবির্ভাব হয় সেক্ষেত্রেও দাম উপর দিকে ওঠার অর্থাৎ কনটিনিউয়েশনের বদলে রিভার্সাল হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

অ্যাসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল প্যাটার্ন
অ্যাসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল

# বিয়ারিশ ডিসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল (অবরোহী ত্রিভুজ)

অ্য়াসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল-এর বিয়ারিশ ভার্সন হচ্ছে ডিসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল। এক্ষেত্রে নীচের সাপোর্ট লাইনটা অনুভূমিক আর উপরের ট্রেন্ডলাইনটা হেলানো বা পতনশীল হয়। সাধারণত এগুলো শেয়ারের দাম যখন নীচের দিকে নামে তখনই তৈরি হয় আর ব্রেকডাউন বা ত্রিভুজ ভেদ করে নীচের দিকে দাম নামার মাধ্যমে ফরমেশন শেষ হয়।

ডিসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল প্যাটার্ন
ডিসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল

# সিমেট্রিক্যাল ট্রায়াঙ্গেল (প্রতিসম ত্রিভুজ)

আরও পড়ুনঃ  শেয়ার বাজারের 5 স্বনামধন্য ট্রেডার - ইনভেস্টার - যারা এখানেই খুঁজে পেয়েছেন গুপ্তধন

যখন ত্রিভুজটার উপরের ও নীচের দুই লাইনই হেলানো এবং উভয়ের ঢাল প্রায় সমান হয় তখন তাকে সিমেট্রিক্যাল ট্রায়াঙ্গেল বলে। বুলিশ ও বিয়ারিশ দুই ক্ষেত্রেইএ ধরনের প্যাটার্ন তৈরি হয় এবং তৈরি হওয়ার পূর্ববর্তী ট্রেন্ড যেদিকে থাকে ব্রেক আউট সাধারণত সেদিকেই হয়।

সিমেট্রিক্যাল ট্রায়াঙ্গেল
সিমেট্রিক্যাল ট্রায়াঙ্গেল

রেক্টাঙ্গেল (আয়তাকার) 

ফ্ল্যাগের ডাণ্ডা বাদ দিয়ে আর ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী হওয়ার বদলে ফ্ল্যাগটা সোজা (মেঝের সঙ্গে সমান্তরাল) হলে যেটা তৈরি হয় সেটাই রেক্ট্যাঙ্গেল বা আয়তকার প্যাটার্ন।

আর সিমেট্রিক্যাল ট্রায়াঙ্গেলের মতো এক্ষেত্রেও প্যাটার্ন তৈরি হওয়ার আগে ট্রেন্ড যেদিকে ছিল ব্রেক আউট-ও সাধারণত সেদিকেই কন্টিনিউ হয়।

রেক্ট্যাঙ্গেল প্যাটার্ন
রেক্ট্যাঙ্গেল

কাপ এবং হ্যান্ডেল

কাপ এবং হ্যান্ডেল প্যাটার্ন সাধারণত বুলিশ কন্টিনিউয়েশন হিসেবে কাজ করে, তবে অনেক সময় এটা বুলিশ রিভার্সাল প্যাটার্ন এর মতও ব্যবহার করে।

এর প্রধান অংশ দুটো। বড় কাপ অংশটা ‘U’ – লেটারের আকারের মত হয় আর তারপর একটা ছোটো হ্যান্ডেল অংশ তৈরি হয়। সাধারণত লং টার্মের প্রধান আপট্রেন্ড চলাকালীন প্যাটার্ন শুরুর সময় একটা লেভেল থেকে দাম কিছুদুর ধীর গতিতে পড়তে পড়তে একটা জায়গা থেকে (কাপের তলা) আবার ধীরে ধীরে এমন ভাবে উঠতে আরম্ভ করে যে একটা ‘U’- এর মতো আকার তৈরি হয়।

দাম যে লেভেল থেকে নামা শুরু হয়েছিল, ‘U’ আকার তৈরি করার পর আবার মোটামুটি কমবেশি সেই লেভেল (কাপের কিনারা) পর্যন্তই ওঠে। এরপর দাম আবার খানিকটা কমে ছোট্ট একটা ফ্ল্যাগ প্যাটার্নের মতো আকার তৈরি করেই পুনরায় কাপের কিনারার লেভেলে ফিরে আসে এবং ‘হ্যান্ডেল’-টা তৈরি হয়।

তারপর ঐ লেভেল থেকেই ব্রেকআউট হওয়ার মাধ্যমে প্যাটার্ন শেষ হয়। 

কাপ এবং হ্যান্ডেল প্যাটার্ন
কাপ এবং হ্যান্ডেল প্যাটার্ন

#২ রিভার্সাল চার্ট প্যাটার্ন 

ইতিমধ্যে চলা ট্রেন্ড যখন উল্টোদিকে ঘুরে যায়, তখন বলা হয় রিভার্সাল হয়েছে। রিভার্সাল হওয়ার আগে পূর্ববর্তী ট্রেন্ড কিছু সময়ের জন্য থমকে গিয়ে যে আকার তৈরি করে তাকেই রিভার্সাল চার্ট প্যাটার্ন বলে।

কন্টিনিউয়েশন চার্ট প্যাটার্নের সঙ্গে এর তফাৎ হচ্ছে, কন্টিনিউয়েশনের ক্ষেত্রে যেখানে ব্রেক আউট হয় পূর্ববর্তী ট্রেন্ডের দিকেই অর্থাৎ পূর্ববর্তী ট্রেন্ড কন্টিনিউ হয় সেখানে রিভার্সাল প্যাটার্নের পর ব্রেক আউট বা ব্রেক ডাউন যাই হোক না কেন সেটা পূর্ববর্তী ট্রেন্ডের উল্টোদিকে হয়।

সবথেকে প্রচলিত রিভার্সাল প্যাটার্ন গুলো নীচে দেওয়া হলঃ

হেড অ্যান্ড সোল্ডার (মাথা ও কাঁধ)

# বুলিশ থেকে বিয়ারিশ (সোজা)

হেড অ্যান্ড সোল্ডার প্যাটার্নে চারটে উপাদান থাকে। সেন্টারে থাকে একটা উঁচু মাথা আর তার দুদিকে থাকে এর থেকে নিচু দুটো কাঁধ। আর থাকে প্রথম আর দ্বিতীয় লো পয়েন্ট যোগ করে পাওয়া নেকলাইন। যখন এই প্যাটার্ন তৈরি হয় তখন বুলিশ থেকে বিয়ারিশ ট্রেন্ড রিভার্সালের সংকেত দেয়। 

আপট্রেন্ডের সময় ট্রেন্ড যখন চরম উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন সবার প্রথমে এই প্যাটার্নের প্রথম কাঁধটা তৈরি হয়, তারপর ছোট্ট একটা রিট্রেস হয়ে নেকলাইন ছুঁয়ে আবার দাম উপরদিকে উঠে সর্বোচ্চ চূড়ায় যাওয়ার পর নিচের দিকে ঘুরে মাথা তৈরি হয়। দাম দ্বিতীয়বার নিচে নামার সময়-ও নেকলাইন টাচ করে আবার খানিকটা উপরদিকে উঠে দ্বিতীয় কাঁধ তৈরি হয় এবং সবশেষে যখন নামে তখন নেকলাইন ভেদ করে ব্রেকডাউনের মাধ্যমে রিভার্সাল হয়ে প্যাটার্ন শেষ হয়।

হেড অ্যান্ড সোল্ডার প্যাটার্ন
হেড অ্যান্ড সোল্ডার

# বিয়ারিশ থেকে বুলিশ (ইনভার্স বা উল্টো)

ডাউনট্রেন্ডের সময় ইনভার্স বা উল্টো হেড অ্যান্ড সোল্ডার প্যাটার্ন তৈরি হয়।

ইনভার্স হেড অ্যান্ড সোল্ডার প্যাটার্ন
ইনভার্স হেড অ্যান্ড সোল্ডার

ডবল টপ

হেড অ্যান্ড সোল্ডার প্যাটার্নের হেড অংশটা বাদ দিলে দুই সমান চূড়া সহ যে আকার তৈরি হয় সেটাই ডবল টপ প্যাটার্ন। এটা অনেকটা ইংরাজি লেটার ‘M’ -এর মতো দেখতে হয়। এক্ষেত্রেও একটা নেকলাইন (সাপোর্ট) থাকে, যেখান থেকে ব্রেকডাউনের মাধ্যমে বুলিশ থেকে বিয়ারিশ দিকে ট্রেন্ড রিভার্সাল হয়।

ডবল টপ প্যাটার্ন
ডবল টপ

ডবল বটম

এটা ডবল টপের উল্টো প্যাটার্ন এবং অনেকটা ইংরাজি লেটার ‘W’ -এর মতো দেখতে হয়। ডবল টপের ক্ষেত্রে যেখানে বুলিশ থেকে বিয়ারিশ দিকে ট্রেন্ড রিভার্সাল হয় সেখানে এক্ষেত্রে বিয়ারিশ থেকে বুলিশ দিকে ট্রেন্ড রিভার্সাল হয়।

ডবল বটম প্যাটার্ন
ডবল বটম

ট্রিপল টপ ও বটম

ডবল টপ বা বটম প্যাটার্নের যদি আরও একটা অতিরিক্ত চূড়া হয় তবে সেটাকে ট্রিপল টপ বা বটম বলা হবে।

ট্রিপল টপ প্যাটার্ন
ট্রিপল টপ
ট্রিপল বটম প্যাটার্ন
ট্রিপল বটম

রাউন্ডিং বটম ও টপ

কাপ এবং হ্যান্ডেল প্যাটার্নের হ্যান্ডেল বাদ দিয়ে শুধু কাপ বা ‘U’ অংশটার মতোই প্যাটার্ন হচ্ছে রাউন্ডিং বটম প্যাটার্ন। তবে এটার মাধ্যমে সাধারণত ট্রেন্ড রিভার্সাল হয়। মানে ডাউন ট্রেন্ডের শেষে এইরকম আকার তৈরি হয়ে এবং শেষকালে ব্রেক আউট হয়ে আপট্রেন্ড শুরু হয়।

রাউন্ডিং বটম প্যাটার্ন
রাউন্ডিং বটম

রাউন্ডিং টপ এর ঠিক উল্টো। উল্টো কাপ বা উল্টো ‘U’ এর আকৃতি বিশিষ্ট এবং এর মাধ্যমে আপট্রেন্ড থেকে ডাউনট্রেন্ডে রিভার্সাল হয়।

আরও পড়ুনঃ  আইপিও সম্বন্ধে যা কিছু বিনিয়োগকারীদের না জানলেই নয়...।

ওয়েজ (কীলক)

এটাকে রিভার্সাল ক্যাটিগরিতে রাখলেও এধরণের প্যাটার্নে অনেক সময়েই ট্রেন্ডের কন্টিনিউয়েশন-ও হয়। ট্রেন্ড অনুযায়ী এটারও দুই ভার্সন হয়। যথাঃ

# রাইজিং (ঊর্ধ্বমুখী)

এক্ষেত্রে আপট্রেন্ডের সময় দুটো ঊর্ধ্বমুখী এবং ক্রমশ কাছাকাছি আসা ট্রেন্ডলাইনের মধ্যে দামের কনসলিডেশন হয়ে এই প্যাটার্ন তৈরি হয়। এবং শেষকালে ব্রেকডাউনের মাধ্যমে (অনেকসময় ব্রেকআউট) রিভার্সাল হয়ে এর সমাপ্তি হয়। এগুলো অনেকসময় বাবল-এর সময় তৈরি হয়।

রাইজিং ওয়েজ প্যাটার্ন
রাইজিং ওয়েজ

# ফলিং (নিম্নমুখী)

সম্পূর্ণভাবে রাইজিং ওয়েজের বিপরীত। বাজারে প্যানিক-এর সময় অনেকসময় এধরণের প্যাটার্ন তৈরি হয়।

ফলিং ওয়েজ প্যাটার্ন
ফলিং ওয়েজ

চার্ট প্যাটার্ন দেখে ট্রেড কিভাবে?

এই অনুযায়ী ট্রেড করার জন্য,

  • সবার প্রথমে পূর্ববর্তী ট্রেন্ডটা শনাক্ত করতে হবে।
  • অতঃপর চার্ট প্যাটার্ন তৈরি তথা সম্পূর্ণ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
  • প্যাটার্ন-টা কন্টিনিউয়েশন না রিভার্সাল সেটা বুঝতে হবে।
  • ব্রেকআউটের পয়েন্টটা খুঁজতে হবে।
  • সবশেষে ট্রেন্ডলাইনের বাইরে প্রাইস ক্লোজ হওয়ার পর এবং ভলিউমের বৃদ্ধি দেখে ব্রেক আউট কনফার্ম করে ট্রেড নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রথমবার ব্রেক আউট হওয়ার পর একবার রিট্রেস হলে তারপর ট্রেড নেওয়া আরও বেশি নিরাপদ।
  • এন্ট্রি অনুযায়ী সাপোর্ট, রেজিস্ট্যান্স লাইন বা যে ক্যান্ডেলে এন্ট্রি নেওয়া হচ্ছে তার আগের ক্যান্ডেলের নীচে স্টপলস লেভেল ঠিক করা যেতে পারে।
  • ব্রেকআউট পয়েন্ট থেকে প্যাটার্নের সর্বোচ্চ উচ্চতার সমান লেভেল ট্রেডের প্রথম টার্গেটের রেফারেন্স পয়েন্ট হিসাবে ধরা যেতে পারে।

চার্ট প্যাটার্ন এর সীমাবদ্ধতা

  • চার্ট প্যাটার্নের সব থেকে বড় অসুবিধা হচ্ছে ফলস ব্রেকআউট। অনেক সময় ব্রেকআউট হওয়ার পরেই আবার দাম ঘুরে গিয়ে উল্টো দিকে চলে যায়। অর্থাৎ প্যাটার্নের সূত্র অনুযায়ী যা হওয়ার কথা ছিল তার ঠিক উল্টো হয়ে যায়।
  • বিভিন্ন ট্রেডারের চোখে একই প্যাটার্ন অন্য রকম মনে হতে পারে বা তা থেকে অন্য অর্থ বেরিয়ে আসতে পারে।
  • পিছনদিকে তাকিয়ে প্যাটার্ন চিনতে পারা যতটা সহজ, লাইভ মার্কেটে এগুলো বুঝে ওঠা ততটাই জটিল।
  • অনেক সময় যেখানে হয়তো আসলে কোনো প্যাটার্নের অস্তিত্বই নেই, সেখানেও ভুল ভাবে এর অস্তিত্ব আছে বলে মনে হতে পারে।

শেষ কথা

ভালো ও খারাপ দিক যেমনই থাকুক না কেন, ট্রেডিং এ চার্ট প্যাটার্নের একটা বিশাল প্রয়োগ হয়ই। এবং লাইভ মার্কেটে এগুলো স্পট করতে পারলে প্রতিযোগিতামূলক অ্যাডভান্টেজ-ও পাওয়া যায়। তবে এগুলো তখনই সব থেকে বেশি কার্যকর হয় যখন এর সাথে টেকনিক্যাল এনালাইসিসের অন্যান্য টুলগুলো একসাথে প্রয়োগ করা হয়।


সম্পর্কিত পাঠঃ
ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট কী? শেয়ার বাজারে নতুনদের এটা জানা চাই-ই চাই!
সেরা 20 ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন। চার্ট পড়তে হলে জানা চাই-ই-চাই!

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

চার্ট প্যাটার্ন কতখানি ভরসাযোগ্য?

চার্ট প্যাটার্নের উপর ভরসা করতে এমনিতে কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু শুধুমাত্র এগুলো না দেখে এর সাথে টেকনিক্যাল এনালাইসিসের অন্যান্য উপাদান যেমন সাপোর্ট-রেজিস্ট্যান্স, ভলিউম, ইনডিকেটর ইত্যাদি বিষয়গুলোও বিবেচনার মধ্যে ধরা উচিৎ।

সবথেকে শক্তিশালী চার্ট প্যাটার্ন কোনটা?

কোনটা সবথেকে শক্তিশালী প্যাটার্ন হবে সেটা পরিস্থিতি এবং ট্রেডারের স্ট্র্যাটেজি ও প্রয়োগের উপর নির্ভর করে। আপনার স্ট্র্যাটেজিতে যেটা সবথেকে ভালো খাপ খায় সেটাই আপনার জন্য সবথেকে শক্তিশালী।


মন্তব্য করুন