ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা বাঁচানোর 20 টি গোপন উপায়

5/5 - (2 জন রেটিং করেছেন)

দারুন একটা জিনিস ক্রেডিট কার্ড। এটা কেনাকাটার সময়ে ইনস্ট্যান্ট লোন পাওয়ার অসাধারন একটা অস্ত্র। সাধারণ লোনের ক্ষেত্রে যেখানে ব্যাংকে যাও রে, অ্যাপ্লাই করো রে, ওয়েট করো রে — সেখানে এই কার্ড সোয়াইপ করার সাথে সাথে বা কার্ড নাম্বার দিয়ে প্রসিড করার সাথে সাথে কার্ড প্রোভাইডারের তরফ থেকে কেনাকাটার জন্য টাকাটা ইনস্টান্ট লোন হিসাবে পেয়ে যাওয়া যায়। আবার সাধারণ লোনে যেখানে লোন স্যাংশন হওয়ার সাথে সাথেই ইন্টারেস্ট কাউন্ট করা শুরু হয়ে যায় সেখানে এটা ব্যবহার করলে বিনা ইন্টারেস্টে লোন শোধ করার জন্য 50 দিন পর্যন্ত পেয়ে যাওয়া যায়।

ক্যাশ বা ডেবিট কার্ড এর বদলে কিভাবে এই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বেশি বেশি পরিমাণে টাকা বাঁচানো যেতে পারে সে ব্যাপারে 20 টি উপায় আমি এখানে শেয়ার করব।

সূচীপত্র দেখান

সঠিক ক্রেডিট কার্ড নির্বাচন করে

আপনি যদি এই কার্ড নেওয়ার জন্য গুগল সার্চ করেন দেখবেন বহু রকমের ক্রেডিট কার্ড বাজারে অ্যাভেলেবল আছে। যেমন ধরুন ক্লাসিক, ক্যাশব্যাক, এন্টারটেইনমেন্ট, ট্রাভেল, প্রিমিয়াম বা বিভিন্ন রকমের কো-ব্র্যান্ডেড ক্রেডিট কার্ড।

আপনি মূলত কি উদ্দেশ্যে বা কি ক্ষেত্রে এই কার্ড ব্যবহার করতে চাইছেন তার উপরে ভিত্তি করে আপনাকে আপনার কার্ড বেছে নিতে হবে। কারণ ক্ষেত্রবিশেষে উপযুক্ত ক্রেডিট কার্ড থেকে বেশি সুযোগ সুবিধা বা ছাড়-ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়।

যেমন ধরুন আপনি যদি অ্যামাজনে বেশি কেনাকাটা করেন তাহলে অ্যামাজন পে আইসিআইসিআই কার্ডের জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারেন, আবার ফ্লিপকার্ট বেশি পছন্দ হলে ফ্লিপকার্ট অ্যাক্সিস ব্যাংক কার্ড বেছে নিতে পারেন। এই দুটো কার্ডেই নিজ নিজ প্ল্যাটফর্মে সব সময় কেনাকাটার জন্য 5% ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়।

ওয়েলকাম অফার এর ব্যবহার করে

সাধারণত বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রেই নতুন কার্ডের জন্য অ্যাপ্লাই করার সময় কিছু ওয়েলকাম অফার, গিফট কার্ড, রিওয়ার্ড পয়েন্ট ইত্যাদি পাওয়া যায়। এই ওয়েলকাম অফার কার্ড ভেদে বিভিন্ন রকম হয়। আপনি যে কার্ডের জন্য অ্যাপ্লাই করেছেন সেই কার্ডের ওয়েলকাম অফার কি কি আছে সেগুলো জেনে নিয়ে যদি সেগুলো কার্ড পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যবহার করা যায় তাহলে সেই মতো ব্যবহার করে এবং যদি কোন শর্ত সাপেক্ষে অফার গুলো পাওয়া যায় তাহলে সেই শর্ত পূরণ করার পর সেই অফার গুলো ব্যবহার করে কিছু টাকা বাঁচানো যেতে পারে।

যেমন ধরুন এই মুহূর্তে ফ্লিপকার্ট অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক ক্রেডিট কার্ডের জন্য যদি আপনি অ্যাপ্লাই করেন তাহলে আপনি ওয়েলকাম অফার হিসেবে ফ্লিপকার্টের 500 টাকার গিফট ভাউচার, মিন্ত্রা তে 15% ক্যাশব্যাক এবং সুইগীতে 50% ডিসকাউন্ট পাবেন। ফ্লিপকার্টের গিফট ভাউচার পাওয়ার জন্য আপনাকে কার্ড পাওয়ার 30 দিনের মধ্যে একটা ট্রানজাকশন করতে হবে। মিন্ত্রা এবং সুইগীর ছাড়টাও আপনি পাবেন 30 দিনের মধ্যে অর্ডার করলে তবেই। 

আলাদা আলাদা পরিস্থিতিতে আলাদা আলাদা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে

একটু আগেই বলেছি বিভিন্ন কার্ড প্রোভাইডারের তরফ থেকে বহু রকমের আলাদা আলাদা ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যায়। এবং বিভিন্ন রকম পরিস্থিতিতে আলাদা আলাদা কার্ড থেকে আলাদা আলাদা রকম সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। এবং আপনি কটা কার্ড নিতে পারবেন সে বিষয়ে কিন্তু কোন বাধ্যবাধকতা নেই। বা একাধিক কার্ড নিলে এমনিতে কোনও সমস্যাও নেই। তাই আপনি আলাদা আলাদা পরিস্থিতির জন্য একাধিক আলাদা আলাদা কার্ড ব্যবহার করে ওভারঅল বেশি লাভ পেতে পারেন। 

আরও পড়ুনঃ  অ্যামাজন থেকে অবিশ্বাস্য ছাড়ে, খুব সস্তা দামে দুর্দান্ত কোয়ালিটির ব্র্যান্ডেড প্রোডাক্ট বা জিনিস কিনে টাকা বাঁচাবার উপায়।

যেমন ধরুন আপনার কাছে ফ্লিপকার্ট অ্যাক্সিস ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক মাই জোন ক্রেডিট কার্ড আছে। এবার ধরুন আপনাকে অনলাইনে কিছু শপিং করতে হবে এবং দুটো মুভি টিকিট বুক করতে হবে। আপনি যদি অনলাইন শপিংটা ফ্লিপকার্টে করেন এবং সেখানে কেনাকাটার সময় ফ্লিপকার্ট অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক কার্ড ব্যবহার করেন তাহলে আপনি 5% ক্যাশব্যাক পাবেন এবং মুভি টিকিট বুকিং-এর জন্য পেটিএম থেকে মাইোজন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে যদি মুভি টিকিট বুকিং করেন তাহলে একটা মুভি টিকিটের সঙ্গে আর একটা মুভি টিকিট ফ্রিতেই বুক করতে পারবেন। সুতরাং, দুটো আলাদা কার্ড থাকার জন্য আপনি তুলনামূলক বেশি টাকা বাঁচাতে পারবেন।

রিওয়ার্ড পয়েন্ট-এর সুবিধা নিয়ে

কিছু কিছু ক্যাশব্যাক কার্ড ছাড়া বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডে রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাওয়া যায়। সেই রিওয়ার্ড পয়েন্ট গুলো বিভিন্ন কার্ডের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম নিয়ম অনুসরণ করে রিডিম করতে হয়। ওই রিওয়ার্ড পয়েন্ট রিডিম করে গিফট কার্ড বা ক্যাশব্যাক পাওয়া যেতে পারে আবার বিভিন্ন প্রোডাক্ট, সিনেমার টিকিট, সাবস্ক্রিপশন ইত্যাদি কেনার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

সেলের সময় ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট-এর সুবিধা নিয়ে

অনলাইনে এমনকি অফলাইনেও বিভিন্ন সময় আলাদা আলাদা কার্ডের উপর 5-15% ইনস্ট্যান্ট ছাড়ের অফার দেয়। কেনাকাটা গুলো, বিশেষ করে বড় বড় দামী জিনিস হলে ওই বিশেষ ছাড়ের সময়ই করা উচিৎ।

ধরুন আপনি একটা বড় টিভি কেনার প্ল্যান করছেন। সাধারণ ভাবে যদি আপনার পছন্দের মডেল টার দাম 50000 টাকা হয়, আপনার কার্ডে যখন 10% ছাড় পাওয়া যাবে তখন কিনলে আপনি 5000 টাকা এক্সট্রা বাঁচাতে পারবেন।

ক্যাশব্যাক এর সুবিধা নিয়ে

বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ডে আলাদা আলাদা পেমেন্টের ক্ষেত্রে আলাদা আলদা রকম ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ থাকে। এই ক্যাশব্যাক পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমত সেগুলোর ব্যাপারে জানতে হবে এবং যথাসময়ে আপনার কার্ড ব্যবহার করে সুবিধাগুলো নিতে হবে। তাহলেই আপনি লাভবান হবেন।

একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই। অ্যামাজনের কার্ডে অ্যামাজন থেকে যেকোনো বিল পেমেন্টে 2% ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। এই ক্যাশব্যাক যেমন আপনি মোবাইল রিচার্জ, গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং, ইলেক্ট্রিসিটি বিল পেমেন্ট ইত্যাদি ক্ষেত্রে পাবেন তেমনই আবার ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম পেমেন্ট এর ক্ষেত্রেও পাবেন। ইনভেস্টমেন্ট হিসাবে আপনার যদি কোন বড় অ্যামাউন্টের ইন্সুরেন্স করা থাকে সেক্ষেত্রে প্রিমিয়াম পেমেন্টের সময় আপনি 2% লাভ পেতে পারবেন। এক লাখের প্রিমিয়াম হলে 2000 টাকা বেঁচে যাবে। এ ধরনের সুবিধা আপনি অন্য কোন ভাবে পাবেন না।

ক্রেডিট কার্ডের বিভিন্নরকম সুবিধা গুলোর ব্যবহার করে 

বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ডে মূল যে ফিচার থাকে তার বাইরেও অনেক এক্সট্রা ফিচার বা এক্সট্রা ছাড়ের সুযোগ থাকে। যেমন ধরুন তেলের সারচার্জে ছাড়, ফ্রি লাউঞ্জ অ্যাক্সেস, ফ্রি ইন্সুরেন্স ইত্যাদি। আপনি যে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন বা অ্যাপ্লাই করার কথা ভাবছেন সেই কার্ডে এই ধরনের কি কি এক্সট্রা ফিচার আছে সেগুলো জেনে নিয়ে এবং তার সদ্ব্যবহার করে আপনি কিছু সেভিংস করতে পারবেন। এ ধরনের কিছু উদাহরণ জানতে হলে সবথেকে সেরা 5 টা ক্যাশব্যাক কার্ডের ব্যাপারে এই আর্টিকেলটা পড়ে নিতে পারেন। 

প্রমোশনাল অফার এর সুবিধা নিয়ে

ক্রেডিট কার্ড প্রোভাইডার গুলো আলাদা আলাদা সময়ে তাদের কার্ডে বিভিন্ন রকম প্রমোশনাল অফার দেয়। যেমন ধরুন কোনো এক মাসে হয়তো আপনার কাছে একটা ইমেইল এলো এইরকম যে, আগামী 2 মাসের মধ্যে যদি অমুক কার্ডে 5000 টাকার ট্রানজাকশন করেন তাহলে 500 টাকার একটা গিফট কার্ড পাবেন। আপনার সাধারণ খরচ গুলোকে তখন সেই 2 মাসের জন্য ওই অফারওয়ালা কার্ডের মাধ্যমে করে শর্ত পূরণ করে ফেললেই ফ্রী তে ওই গিফট কার্ডটা আপনার হয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ  ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে পার্থক্য কী? কোনটা বেশি ভালো?

কুপন ব্যবহার করে

অনেক সময় অনেক ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য নির্দিষ্ট কুপন কোড ব্যবহার করে তবে এক্সট্রা ছাড় পাওয়া যায়। ছাড় পাওয়ার জন্য পেমেন্ট করার আগে সেগুলোর ব্যাপারে জেনে নিয়ে সেই কুপন কোড গুলো অ্যাপ্লাই করে নিতে হয়।

নীচের আর্টিকেলটি পড়ে নিয়ে

অনলাইনে বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটার সময়ে কিভাবে প্রমোশানাল 10% ছাড়ের উপরে সবসময়ের জন্য আরও 10% পর্যন্ত এক্সট্রা ছাড় পাওয়া যেতে পারে ← এই লিঙ্ক থেকে আর্টিকেলটা পড়ে নিয়ে সে ব্যাপারে জানতে পারবেন।

নো কস্ট ইএমআই এর সুবিধা নিয়ে

ক্রেডিট কার্ড মানেই ইএমআই-এর সুবিধা নেওয়া যায়। ইএমআই মানেই কোন বড় কেনাকাটার ক্ষেত্রে একসাথে পেমেন্ট করতে হয় না এবং এমাউন্ট টাকে ভাগ করে আগামী কয়েক মাস ধরে দেওয়া যায়। কিন্তু সাধারণ ইএমআই এর ক্ষেত্রে ইন্টারেস্ট গুনতে হয়। অকেশনালি বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ডে নো কস্ট ইএমআই এর সুবিধা পাওয়া যায়। এই সুবিধা নিয়ে কেনাকাটা করলে ইএমআই এর সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি ইন্টারেস্ট-টাও বাঁচানো যায়।

ইন্টারেস্ট ফ্রি পিরিয়ডে ইন্টারেস্ট আয় করে

বিলিং সাইকেলের প্রথম দিনে বা স্টেটমেন্ট জেনারেট হওয়ার পরের দিনেই যদি আপনি ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা করেন তাহলে সেই টাকা মেটানোর জন্য সবথেকে বেশি মানে 50 দিন পর্যন্ত সময় পাওয়া যায়। যদি আপনার বড় কিছু কেনাকাটা বা বড় অ্যামাউন্টের কিছু পেমেন্ট করার প্রয়োজন পড়ে, এবং সেটা ক্যাশ এর বদলে কার্ডে করেন এবং সেটা যদি বিলিং সাইকেলের প্রথম দিকে করতে পারেন তাহলে 50 দিন পর্যন্ত সময় আপনি সেই বড় অ্যামাউন্টের ক্যাশটা ফিক্স ডিপোজিট বা যেকোনো জায়গায় বিনিয়োগ করার মাধ্যমে ইন্টারেস্টটা এক্সট্রা লাভ হিসাবে নিজের পকেটে পুরতে পারবেন।

অ্যানুয়াল মেইনটেনেন্স চার্জ ফ্রি করে

লাইফ টাইম ফ্রি ক্রেডিট কার্ডে কোনো অ্যানুয়াল মেনটেনেন্স ফি দিতে হয় না। কিন্তু অনেক পেইড ক্রেডিট কার্ডে অ্যানুয়াল মেনটেনেন্স চার্জে লাগে। যে কার্ডগুলোয় অ্যানুয়াল মেনটেনেন্স চার্জ লাগে সেগুলোয় কিন্তু একটা এমাউন্ট ফিক্স করা থাকে, এক বছরের মধ্যে যে অ্যামাউন্টের কেনাকাটা করলে চার্জ টা ছেড়ে দেওয়া হয়। পারলে সেই এমাউন্টের কেনাকাটা করে চার্জটা ফ্রি করে নেওয়া যেতে পারে।

কোনো কোনো পেইড কার্ড আবার বিশেষ শর্তসাপেক্ষে লাইফটাইম ফ্রি করে দেওয়া হয়। সেই শর্তগুলোর ব্যাপারে জেনে পেইড কার্ড কে লাইফটাইম ফ্রি করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

কিছু কিছু পেইড কার্ডে অ্যানুয়াল মেনটেনেন্স চার্জ কেটে নেওয়ার পরেও কাস্টমার কেয়ারে রিকোয়েস্ট করলে অনেক সময় ওরা ক্রেডিট হিস্ট্রি দেখে ওই চার্জ রিফান্ড করে দেয়। তো সেই চেষ্টাও করা যেতেই পারে!

সময়মতো বিল মিটিয়ে

ক্রেডিট কার্ড খুব ভালো যদি ঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু একটু অসাবধানী হলে বা সময় মত বিল না মেটালে পেনাল্টি, ইন্টারেস্ট ইত্যাদি দিতে দিতে খরচ বহু বেড়ে যেতে পারে। তাই সময়মতো বিল মিটিয়ে এইসব এক্সট্রা খরচ হওয়া থেকে বাঁচা যেতে পারে।

পেমেন্ট যাতে মিস না হয়ে যায় সেজন্য ব্যাংকে কন্টাক্ট করে অটো পেমেন্ট অপশন অন করে নেওয়া যেতে পারে।

রোল ওভারের বদলে ইএমআই তে কনভার্ট করে 

কোনো মাসে ক্রেডিট কার্ডের বড় বিল মেটাতে যদি অসুবিধে হয় সেক্ষেত্রে মিনিমাম পেমেন্ট করে দিয়ে বাকি ব্যালেন্সটাকে রোল-ওভার করা যায়। মানে এক মাসের বিল পরের মাসে অ্যাড হয়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে খুবই হাই ইন্টারেস্ট দিতে হয়। তাই কখনো বিল মেটাতে অসুবিধা হলে বড় খরচগুলোকে ইএমআই তে কনভার্ট করে নেওয়া যায়। রোলওভার করার ক্ষেত্রে যেখানে 40% এরও বেশি ইন্টারেস্ট দিতে হয়, সেক্ষেত্রে ইএমআই-তে মোটামুটি কমবেশি 15% ইন্টারেস্ট দিয়ে কিছু টাকা বাঁচানো যায়। 

আরও পড়ুনঃ  সেভিংস ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলে কি কি অছিলায় চার্জ কাটে - যেগুলো ব্যাংকের লোকেরা আপনাকে কোনোদিনও বলবে না

অন্য লোনের মাধ্যমে বিল মিটিয়ে

বিল পে করতে না পারলে উপরে যে উপায় বললাম সেই মতো ইএমআই তে কনভার্ট করলে ইন্টারেস্টটা কিছুটা কম হয়। আরও একটা উপায় আছে যেক্ষেত্রে ইন্টারেস্টটা ইএমআই-এর থেকেও কম হয়। সিম্পলি পার্সোনাল বা অন্য কোনো ধরনের লোন নিয়ে ক্রেডিট কার্ডের বিল মেটানো যেতে পারে। যদিও এই ধরনের জিনিসগুলো অভ্যাস হয়ে যাওয়া একেবারেই অভিপ্রেত নয় তবে কোনভাবে ফাঁদে পড়ে গেলে এই উপায় অবলম্বন করে আরোও কিছুটা ইন্টারেস্ট আপনি বাঁচাতে পারবেন।

অন্য ক্রেডিট কার্ডে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করে

বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ডের ইন্টারেস্ট রেট কিছুটা কমবেশি হয়। যদি কখনো কোনো মাসের বিল রোল ওভার করার বা ইএমআই তে কনভার্ট করার দরকার পড়ে সে ক্ষেত্রে হাই ইন্টারেস্ট এর কার্ডের ব্যালেন্স লো ইন্টারেস্ট এর কার্ডে ট্রান্সফার করে কিছুটা ইন্টারেস্টের খরচ আপনি বাঁচাতে পারবেন।

ভালো ক্রেডিট স্কোর বিল্ড করে

আপনি যদি নিয়মিত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন এবং প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ের আগে বিল পেমেন্ট করে দেন তাহলে আপনার ক্রেডিট স্কোর খুব ভালো থাকে। আর ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকলে ভবিষ্যতে অন্যান্য সুবিধা যুক্ত ক্রেডিট কার্ড পেতেও যেমন অসুবিধা হয় না, তেমনই আবার লোনের জন্য অ্যাপ্লাই করলে ভালো স্কোরের জন্য আপনি অপেক্ষাকৃত কম ইন্টারেস্টে লোন পেতে পারেন।

ক্যাশকরোর মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ডের জন্য অ্যাপ্লাই করে

ক্যাশকরোর মাধ্যমে কিছু বিশেষ ক্রেডিট কার্ডের জন্য অ্যাপ্লাই করলে কিছু ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। ক্যাশকারোর ব্যাপারে বিশদে জানতে হলে এই আর্টিকেলটি পড়ে নিতে পারেন।

ক্রেডিট কার্ডকে ডেবিট কার্ডের মত ব্যবহার করে

ক্রেডিট কার্ড খুব ভালো যদি সঠিকভাবে রেসপন্সিবলি এর ব্যবহার করা হয়। যেহেতু এর ব্যবহার করা মানে তাৎক্ষণিক টাকা দিতে হয় না তাই অনেক ব্যবহারকারীই এর অত্যধিক ব্যবহার করে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন। আর প্রয়জনের বেশি কেনাকাটা করা বা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া বা ইএমআই এর বোঝা চেপে যাওয়া মানেই খরচের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি। তা থেকে বাঁচার একটাই উপায় হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডকে ডেবিট কার্ডের মত ব্যবহার করা মানে ততটাই খরচ করা যেটা সাধ্যের মধ্যে আছে। আর তাহলেই আপনি এর সুবিধাগুলোও নিতে পারবেন আর এটা আপনার বোঝা হয়েও উঠবে না।

শেষ করার আগে …

শেষকালে একটাই কথা বলব, ক্রেডিট কার্ডকে ভয় পাবেন না। এই কার্ড সম্পর্কিত বিষয়গুলো জানুন, ভুল ধারণা গুলো ভাঙুন এবং সঠিক ব্যবহার শিখুন। তাহলেই দেখবেন এই কার্ড ব্যবহার করা মানে সোনায় সোহাগা!

তাহলে এখানেই শেষ করি… ভালো থাকবেন, টা টা। 🙂


প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

ক্রেডিট কার্ড কী?

ক্রেডিট কার্ড এমন একধরনের কার্ড যেটা ব্যবহার করে একটা নির্দিষ্ট লিমিটের মধ্যে কেনাকাটা বা পেমেন্ট করার জন্য তাৎক্ষণিক ধার পাওয়া যায়। ধার নেওয়া অর্থ একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিনা সুদে বা সেই সময়ের বাইরে সুদসহ ফেরত দেওয়া যায়।

ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের তফাৎ কী?

আপনার কাছে মানে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলে তবেই ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন আর ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করার সাথে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা তাতে থাকা ব্যালেন্সের কোনও সম্পর্কই নেই। কারণ এই কার্ড ব্যবহার করার সময় টাকাটা কার্ড প্রোভাইডার ধার হিসাবে দেয়।

মন্তব্য করুন