কিভাবে টাকা বাড়ানো যায়? বিনিয়োগের সেরা 10 বিকল্প।

5/5 - (3 জন রেটিং করেছেন)

কম হোক বা বেশি, কারও কাছে যেকোনো সময়ে যে পরিমাণ টাকাই থাকুক না কেন, আমরা সবাই-ই চাই আমাদের কাছে যে টাকা আছে তার থেকে বেশি টাকা পেতে বা তা আরও বাড়াতে। কিন্তু টাকা তো আর এমনি এমনি বাড়বে না! বাড়া তো দূর, ফেলে রাখা টাকার ভ্যালু বা বাইং পাওয়ার আসলে নিত্যদিন কমতে থাকে মুদ্রাস্ফীতি নামক রাক্ষসের গ্রাসে।

তাহলে টাকা বাড়বে কিভাবে? টাকা বাড়াতে হলে একটা সহজ উপায় আয় বাড়ানো। কিন্তু সেটাতো আর অত সহজ-সরল না… আর এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচনার বিষয়-ও সেটা না। আমাদের বর্তমান আয় যত বা যে টাকা আমাদের কাছে আছে সেটাকে কিভাবে বাড়ানো যাবে সেটাই আমি এখানে খোঁজার চেষ্টা করা হবে।

টাকা বাড়ানো মানে সোজা কথায় টাকার সাহায্যে বা টাকাকে খাটিয়ে আরও টাকা আয় করা। বিশ্বের তাবড় তাবড় বড়লোকরা কিন্তু এভাবেই বড়লোক হয়েছেন এবং তাঁরা নিত্য আরো বড়লোক হচ্ছেন এই উপায় অবলম্বন করেই।

টাকা বাড়ানো মানে কিন্তু আবার টাকা জমানো নয়। টাকা দিয়ে টাকা বাড়ানো মানে জমানো বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা। কিন্তু বিনিয়োগ কোথায় করবেন? এই প্রশ্নের উত্তরেই এখানে থাকলো বিনিয়োগের সেরা 10 টা বিকল্পের সন্ধান।

বিনিয়োগ করা কেন দরকার?

বিনিয়োগ আনে আর্থিক সচ্ছলতা ও স্বাধীনতা। বিনিয়োগ করা মানে ঘুমের মধ্যেও আয় করা। বিনিয়োগ করা মানে মুদ্রাস্ফীতি কে হারানো। বিনিয়োগ করা মানে স্বপ্নগুলো সত্যি করার পথে আরও কিছুটা এগিয়ে যাওয়া। তাই বিনিয়োগ করা চাই-ই-চাই।

বিনিয়োগের ভয় বা ঝুঁকি

বেশীরভাগ বিনিয়োগকারী-ই এমন জায়গায় বিনিয়োগ করতে চান যেখানে কম সময়ে বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁরা আবার বেশি ঝুঁকিও নিতে চান না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ঝুঁকিবিহীন হাই রিটার্ন দেয় এমন কোনোকিছুর অস্তিত্বই নেই। আপনি যত বেশি রিটার্নের আশা করবেন ঝুঁকি তত বাড়বে। সুতরাং আপনাকে আপনার বিনিয়োগের বিকল্প বেছে নিতে হবে আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বা মনোভাবের উপর ভিত্তি করে।

1. সরাসরি ইকুইটি বা শেয়ার

সবথেকে বেশি ঝুঁকি এবং সাথে সবথেকে বেশি রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সরাসরি ইকুইটিতে বিনিয়োগ করলে বা শেয়ার কিনলে। এই ওয়েবসাইটের একটা বড় অংশ শেয়ার বাজার সম্পর্কিত বিষয়েই ডেডিকেট করা হয়েছে। চাইলে আপনি এখানেই শেয়ার বাজারের বিষয়ে অনেক কিছুই জানতে পারবেন। কিন্তু সরাসরি শেয়ার বাজারে টাকা লাগানো সবার জন্য নয়। শেয়ার বাজার বা শেয়ারের দাম ভীষণ ভাবে ওঠানামা করে। সঠিক শেয়ার বাছাই করা, সঠিক সময়ে শেয়ার কেনা বা দরকার পড়লে শেয়ার বিক্রি করে লাভ ঘরে তোলা – এগুলো মোটেও সহজ না। তাই শেয়ার বাজারে নামতে চাইলে সবদিক ভেবচিন্তে, পড়াশোনা করে, শিখে-জেনে-বুঝে এবং ধীর গতিতে নামা উচিৎ।

আরও পড়ুনঃ  শেয়ার বাজারের উপর ভোট বা নির্বাচনের প্রভাব কেমনতর হয়....?

না জেনে বুঝে আনাড়ির মতো কাজ করলে কিন্তু বড়সড় ক্ষতিও হতে পারে। তাই এই জায়গায় নামার আগে সাবধান!

তবে ভালো ভালো বড় বড় কিছু কোম্পানির শেয়ার লম্বা সময়ের জন্য কিনে রাখলে সাধারণত অন্যসব বিনিয়োগের থেকে বেশি রিটার্ন-ই দেয়।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে কিংবদন্তী ইনভেস্টার ওয়ারেন বাফেটের 5 টা সেরা পরামর্শ আপনার প্রথম পথের দিশা হয়ে উঠতে পারে।

2. ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড এবং ইটিএফ

শেয়ার বাজারে সরাসরি না নেমে এখানে পরোক্ষভাবে বিনিয়োগ করতে চাইলে ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড বা ইটিএফ-এ বিনিয়োগ করা যেতে পারে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সবথেকে কম ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা এটাই। ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড এবং ইটিএফ বা এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড হচ্ছে আসলে কতকগুলো শেয়ারের সমাহার। দুই ক্ষেত্রেই কোন শেয়ারের কতটা অংশ থাকবে, সেটা হয় কোনও ইনডেক্স ফলো করে নির্ধারিত হয় বা এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ফান্ড ম্যানেজাররা সবদিক বিবেচনা করে ঠিক করেন। আর বিভিন্ন ইনডেক্স বা থিম এর উপর বেস করে এধরনের ফান্ডগুলো অনেক রকমের হয়। এক্ষেত্রে ইনভেস্ট করার জন্য আমাদের শুধু যথাক্রমে ব্যাংক বা ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এককালীন বা এসআইপি করে টাকা বিনিয়োগ করতে হয় আর তারপর টাকা বাড়ার জন্য লম্বা অপেক্ষা করা ছাড়া আর সেরকম কিছু করার থাকে না।

3. ডেট (Debt) মিউচুয়াল ফান্ড

যারা ইকুইটি বা শেয়ার এবং এই সংক্রান্ত ঝুঁকি এড়াতে চান এবং অপেক্ষাকৃত স্থির রিটার্ন পেতে চান তারা এই ডেট (Debt) মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। Debt মানে ঋণ। এধরনের ফান্ড গুলোয় সাধারণত কর্পোরেট বন্ড, গভমেন্ট সিকিউরিটি, ট্রেজারি বিল, কমার্শিয়াল পেপার ইত্যাদি বিভিন্ন মানি মার্কেট ইন্সট্রুমেন্টে টাকা লাগানো হয় ফিক্সড ইন্টারেস্ট পাওয়ার জন্য।

তবে এগুলো পুরোপুরি ঝুঁকিবিহীন নয়। এক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল ইন্টারেস্ট রেট এবং ক্রেডিট রিস্ক থাকেই।

4. এনপিএস বা ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম

এটা লং টার্মের জন্য ইনভেস্ট করার একটা বিকল্প। গভমেন্ট স্পন্সরড এই স্কিমে বুড়ো বয়সে অবসরপ্রাপ্ত সময়ে পেনশন এবং সঙ্গে একটা লাম্পসাম অ্যামাউন্ট রিটার্ন হিসেবে পাওয়া যায়। পুরো চাকরিকালীন সময় ধরে এই স্কিমে বিনিয়োগ করা যায় এবং প্রতিবছর কমপক্ষে 1000 টাকা বিনিয়োগ করা এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হয়।

5. পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ

15 বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে চাইলে আপনি পিপিএফ-এ বিনিয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে পাওয়া ইন্টারেস্ট ট্যাক্স ফ্রি। লম্বা সময়ের বিনিয়োগ হওয়ার জন্য কম্পাউন্ডিং এর ফলে শেষ দিকে বেশ ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়।

6. সরাসরি গভর্নমেন্ট বন্ড

সেন্ট্রাল এবং স্টেট গভর্নমেন্টগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের বন্ড ইস্যু করে। আর সেই বন্ড কেনা মানে আসলে গভর্নমেন্টকে টাকা ধার দেওয়া হয়। ম্যাচুরিটিতে পূর্বনির্ধারিত ফিক্সড ইন্টারেস্ট রেট অনুযায়ী সুদ সহ আসল ফেরত পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ  বিনিয়োগে ডাইভারসিফিকেশন কী? কেন? কিভাবে? জানলে বেশ, নয়তো কেস!

একসময় সরাসরি গভর্নমেন্ট বন্ড কেনা যেত না। কিন্তু এখন আপনার আমার মতো সকলেই খুব সহজেই গভর্নমেন্ট বন্ড কিনতে পারি।

আরবিআই-এর রিটেল ডাইরেক্ট প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে খুব সহজেই প্রাইমারি ইস্যুর সময় বা সেকেন্ডারি মার্কেটে বন্ড কেনাবেচা করা যায়।

7. ইউনিট লিঙ্কড ইন্সুরেন্স প্ল্যান বা ULIP

ইউলিপ হচ্ছে এমন একধরনের ইন্সুরেন্স প্ল্যান যাতে ইন্সুরেন্স আর ইনভেস্টমেন্ট দুই-এর লাভ পাওয়া যায়। অন্যান্য ইন্সুরেন্স প্ল্যান এর মত এক্ষেত্রেও পলিসি হোল্ডারকে একটা ইন্সুরেন্স প্ল্যান কিনতে হয়। প্রিমিয়ামের টাকার সামান্য কিছু অংশ ইন্সুরেন্স কভারের জন্য ব্যয় হয় আর বাকি বেশীরভাগ অংশটা ইকুইটি আর ডেট ফান্ডে ইনভেস্টেড হয়।

এক্ষেত্রে সাধারণত ম্যাচুরিটি হয় 10 বছর পর, এছাড়া 5 বছরের লকইন পিরিয়ড থাকে এবং 3 বছর পর থেকে চাইলে প্রিমিয়াম পেমেন্ট বন্ধও করা যেতে পারে।

8. রিয়েল এস্টেট 

জমি বাড়ি-তে বিনিয়োগ করার নামই রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট। সেই আদ্দিকালেও এটা ছিল এবং এখনও বিনিয়োগের এক বিকল্প হিসেবে অনেকেই এই পথ বেছে নেন। তবে যে বাড়িটায় থাকা হয় সেটাকে কিন্তু রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট হিসাবে ধরা যায় না। বসতবাড়ি বাদ দিয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো প্রপার্টি কেনা হয়, সেটাকে রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট হিসাবে ধরা যেতে পারে।

রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট থেকে দু ধরনের রিটার্ন পাওয়া যেতে পারে, এক প্রপার্টির দাম বাড়ে এবং দুই ভাড়া হিসাবে।

9. রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টস বা REITs

সরাসরি রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করতে হলে বিশাল ক্যাপিটালের দরকার পড়ে। কিন্তু আপনি যদি অল্প ক্যাপিটাল রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করতে চান তাহলে আরইআইটি তে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এটা হচ্ছে আয় হয় এমন রিয়েল এস্টেট অ্যাসেটের সমাহার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের মতো এখানে ইউনিটে বিনিয়োগ করা যায়। ওই সমস্ত রিয়েল এস্টেট অ্যাসেট থেকে যা যা আয় হয় তা আরইআইটি ইউনিট হোল্ডারদের ডিস্ট্রিবিউট করে দেওয়া হয়।

এগুলো শেয়ার মার্কেটে লিস্টেড থাকে এবং অন্যান্য শেয়ার এর মতোই কেনা বেচা যায়। তাই এক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে হলে ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট থাকা জরুরী।

এই মুহূর্তে ভারতে তিনটিই আরইআইটি আছে, যথাঃ এম্বাসি বিজনেস পার্ক আরইআইটি, মাইন্ডস্পেস বিজনেস পার্কস আরইআইটি এবং বুকফিল্ড ইন্ডিয়া আরইআইটি।

10. সোনা

সোনার গয়না, সোনার বিস্কুট, ডিজিটাল গোল্ড, গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ড, গোল্ড ইটিএফ, গোল্ড বন্ড ইত্যাদি সোনা সম্পর্কিত ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ব্যাপারে জানার জন্য সোনায় বিনিয়োগ করার 7 টা উপায় ← পড়ে নিতে পারেন।

বোনাসঃ পিয়ার টু পিয়ার বা P2P ইনভেস্টিং

পিয়ার টু পিয়ার লোন মানে হচ্ছে ব্যাংকে না গিয়ে সরাসরি এক ইন্ডিভিজুয়াল ঋণগ্রহীতার অন্যান্য ইন্ডিভিজুয়াল ঋণদাতাদের থেকে থেকে লোন নেওয়া। এটাকে সোশ্যাল বা ক্রাউড লেন্ডিং-ও বলা হয়। পিটুপি ওয়েবসাইট বা অ্যাপগুলো দালাল হিসাবে ঋণগ্রহীতার সাথে ঋণদাতাকে কানেক্ট করিয়ে দেয়। 

এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা মানে হচ্ছে ঋণদাতার ভুমিকা নেওয়া। এই লোনের সুদের হার সাধারণ ব্যাংক লোনের থেকে বেশি হয়। সেজন্য ঋণ দাতারাও ব্যাংক এফডি বা অন্যান্য বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্ট এর থেকে বেশি হারে সুদ পান। তবে যদি ঋণগ্রহীতারা ঋণ ফেরত না দেন বা ডিফল্ট করেন সেক্ষেত্রে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়া মুশকিল হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ক্রেডিট কার্ড থেকে ক্যাশ টাকা তুলবেন? এগুলো না জানলে কিন্তু বিশাল ক্ষতি

উদাহরণস্বরূপ ক্রেডিট কার্ড পেমেন্ট অ্যাপ ক্রেড (Cred) ইদানিং তাদের অ্যাপে একটি ফিচার চালু করেছে ‘ক্রেড মিন্ট’ নামে। এনবিএফসি ফার্ম লিকুইলোন্স-এর সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে চালু করা এই ক্রেড মিন্ট আসলে এক ধরনের পিটুপি ইনভেস্টিং-এর ব্যবস্থাপনা। অন্যান্য পিটুপি ইনভেস্টিং এর থেকে এর তফাৎ হচ্ছে যেহেতু হাই ক্রেডিট স্কোরের ইন্ডিভিজুয়ালরাই ক্রেড অ্যাপে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারেন তাই ক্রেড অ্যাপ ব্যবহার করে যে সব ঋণগ্রহীতারা ঋণ নেন তাদের থেকে ডিফল্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। 

আমি নিজেও ক্রেড মিন্ট ব্যবহার করি এবং ইনভেস্টমেন্ট এর উপরে 9% সুদ পাই। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা এবং প্রয়োজনে টাকা তুলে নেওয়া খুবই সহজ। টাকা ইনভেস্ট করলে যেমন পরের কাজের দিন থেকে সুদ জমা শুরু হয় ঠিক তেমনি উইথড্র রিকোয়েস্ট করলেও সেটা পরের দিনেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসে।

তবে এই ক্রেড মিন্ট ওরা এখনো পর্যন্ত সবার জন্য চালু করেনি। যাদের ওরা যোগ্য মনে করে তাদেরকেই এই সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেয়। আপনি যদি এর সুবিধা নিতে চান এই ক্রেড ব্যবহারের লিংক -এ ক্লিক / ট্যাপ করে অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং অ্যাকাউন্ট ওপেন করুন। যেহেতু আমি একজন ক্রেড মিন্ট ব্যবহারকারী তাই আমার এই অ্যাফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করলে এই ফিচার পাওয়ার সম্ভাবনা আপনার বেশি থাকবে।

শেষ করার আগে…

উপরের বিভিন্ন রকম বিনিয়োগের উপায়গুলো বিভিন্ন রকম রিটার্ন দেয় এবং সেইমত বিভিন্নরকম ঝুঁকি বহন করে। বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানোর একটা উপায় হচ্ছে ডাইভারসিফিকেশন। তাই আপনি নিজের বয়স, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, লক্ষ ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে নিজের পছন্দের এক বা একাধিক বিনিয়োগের বিকল্প বেছে নিন এবং বিনিয়োগ শুরু করুন। তবে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই যেক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চাইছেন সেব্যাপারে বিস্তারিতভাবে জেনে তবেই মাঠে নামুন।

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন 🙂।


প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

কোন ধরণের বিনিয়োগে একদমই ঝুঁকি নেই?

তেমন ধরণের কোনো বিনিয়োগের অস্তিত্বই নেই। যেধরণের বিনিয়োগে ফিক্সড রিটার্ন পাওয়া যায় (যেমন ফিক্সড ডিপোজিট বা সরকারি বন্ড) সেগুলোয় ঝুঁকি নগন্য থাকে। কিন্তু ঝুঁকি-শূন্য নয়। কারণ ব্যাংক-ও উঠে যেতে পারে, কিংবা সরকার-ও দেউলিয়া হতে পারে। এবং এমন ঘটনা ঘটলে টাকা ফেরত নাও পাওয়া যেতে পারে! যদি মনে হয় সরকার দেউলিয়া হতে পারেনা, তাহলে আবার ভেবে দেখুন। কিছুদিন আগেই শ্রীলঙ্কা সরকারের কি অবস্থা হয়েছে অজানা নেই নিশ্চয়ই!

সবথেকে ভালো বিনিয়োগের উপায় কোনটা?

রিটার্ন, ঝুঁকি, সম্ভাবনা, সরলতা ইত্যাদি সবকিছু বিচার করে দেখলে আমার মতে ইটিএফ সবার জন্য উপযুক্ত সবথেকে ভালো বিনিয়োগের রাস্তা।


মন্তব্য করুন