টাকা বাঁচানোর বা বেশি সঞ্চয়ের 20 টা উপায়। #6 সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

4.5/5 - (4 জন রেটিং করেছেন)

ব্যবসায় মন্দা ও প্রতিযোগিতা আর চাকরির ক্ষেত্রে অপ্রতুলতা ও দুর্নীতির কারণে টাকাপয়সা আয় করা আজকের দিনে বেশ বড়সড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যেনতেন প্রকারেণ এই সমস্যার সমাধান হয়ে গেলেও এর থেকে বড় আর এক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় যেটা হচ্ছে সমস্ত খরচের পর কিছু টাকা বাঁচানো!

মাসের প্রথমে মাইনে বা ব্যবসার আয়, আমদানি যেমনই হোক না কেন সমস্যা হচ্ছে খাওয়াদাওয়া, বিল মেটানো, ইএমআই, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা, শখ পূরণ, বিনোদন, ঘোরাঘুরি, উপহার ইত্যাদির পর মাসের শেষে গিয়ে পকেট গড়ের মাঠ! তার উপর মুদ্রাস্ফীতির জন্য জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। বছর বছর আয় যত না বাড়ছে তার থেকে লাফিয়ে বাড়ছে খরচের বহর। যেখানে সংসার চালানোই মুশকিল হচ্ছে সেখানে সঞ্চয় তো লাক্সারি!

এমন পরিস্থিতির সাথে কমবেশি আমরা সকলেই পরিচিত। কিন্তু এরকম পরিস্থিতি থেকে বেরোনো কিভাবে যায়? কিভাবে জীবনধারণের আমূল পরিবর্তন না করেও কিছু এক্সট্রা টাকা বাঁচিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা যায়? তাছাড়া টাকা বাঁচানো যেমন নিজের এবং পরিবারের ভবিষ্যতের প্রয়োজনে দরকার, তেমনই দরকার জরুরী অবস্থার মোকাবিলা করার জন্য।

তবে টাকা বাঁচানোর জন্য কিছু সহজ এবং বাস্তবসম্মত উপায় আছে যেগুলো অনুসরণ করে নিত্যদিন কিছু কিছু টাকা বাঁচানো যেতে পারে। আর এব্যাপারে ছোটো ছোটো কিছু পরিবর্তন চোখের নিমেষেই সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে বেশ একটা বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তাহলে চলুন এই নিবন্ধে টাকা বাঁচানোর এরকম 20 টা উপায়ের কথা জেনে নিই।

সূচীপত্র দেখান

1. লোন থাকলে সেটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শোধ করে দিন

ঋণ বা লোন আমাদের অতিরিক্ত সঞ্চয়ের সম্ভাবনাগুলোকে মূলেই বিনষ্ট করে দেয়। খুব প্রয়োজন না পড়লে প্রথমত আমদের লোন নেওয়া থেকেই বিরত থাকা উচিৎ। তবে যদি লোন নিতেই হয় যতটা সম্ভব কম নিয়ে কাজ চালানো যায় ততটাই নেওয়া উচিৎ।

লোন মানেই বোঝা। বড় বড় কোম্পানিও চেষ্টা করে লোনের ভার যতটা সম্ভব কম রাখতে। যে কোম্পানির ঋণ যত কম থাকে সেই কোম্পানির শেয়ার কেনা তত কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়। কারণ ঋণের বড় বোঝা অনেক সময় বড় বড় কোম্পানিকেও শেষ করে দেয়। আর বিষয়টা আমাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি করে প্রযোজ্য।

অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির সময় এমনিতেই যেমন খরচ বেড়ে যায় তার উপরে আবার ব্যাংকের সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়া হয় (ঠিক যেমনটা ইদানিং হয়েছে)। আর সেই সময়ে লোন নেওয়া থাকলে স্বাভাবিকভাবেই লোনের সুদের বোঝাটা আরও ভারী হয়ে যায়। তাই লোনের বোঝা যত তাড়াতাড়ি ঝেড়ে ফেলা যায় টাকা বাঁচানোর জন্য সেটা ততই মঙ্গল।

2. মাসের প্রথমেই নিজস্ব বাজেট পরিকল্পনা করুন

ব্যবসা এবং দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে যেমন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বাজেট করা হয় আগে হওয়া খরচের বিশ্লেষণ এবং আগামিদিনের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের একটা রূপরেখা তৈরি করতে ঠিক তেমনই আমাদের বাক্তিগত জীবনেও এভাবেই প্রতিমাসের শুরুতেই আগের মাসের খরচের উপর ভিত্তি করে আয় অনুযায়ী বর্তমান মাসের সম্ভাব্য খরচের একটা বাজেট তৈরি করে নেওয়া উচিৎ। এবং বাজেট করার সময় লক্ষ্য রাখা উচিৎ খরচ কমিয়ে সঞ্চয় বেশি করার দিকে।

আরও পড়ুনঃ  কেবলমাত্র ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটে টাকা রেখে যারা ঠকছেন তাদের জন্য শেয়ার বাজারে পা রাখার দিশা।

এটা করার সময় নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন খরচের ক্ষেত্র গুলোকে আলাদা আলদা বিভাগে ভাগ করে পুরো আয়কে ব্যয়ের ও সঞ্চয়ের আলাদা আলাদা খাতে নির্দিষ্ট অনুপাতে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাজেটের 50/30/20 নিয়ম ফলো করা যেতে পারে, মানে আয়ের পুরো টাকাটাকে প্রয়োজনীয় খরচের খাতে 50%, চাহিদাগুলো পূরণ করতে 30%, আর সঞ্চয়ের খাতে 20% হিসাবে বরাদ্দ করা যেতে পারে। নিজের প্রয়োজনমতো এই অনুপাতটা একটু অদল বদল করে নিলেও সঞ্চয়ের পরিমাণ কখনই 10% -এর নিচে হওয়া উচিত নয়।

খরচে রাশ টানতে খরচের বিভিন্ন খাতের জন্য এক-একটা খামের মধ্যে ক্যাশ রাখা যেতে পারে যাতে সেই খাতের পুরো টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার পর আর এক্সট্রা খরচ না হয়।

3. আয়ের টাকা থেকে সবার প্রথমে সঞ্চয়ের খাতের টাকা আলাদা করে নিন

ইংরেজিতে একটা কথা আছে ‘পে ইয়োরসেলফ ফার্স্ট’। মানে যখন আয়ের টাকা হাতে আসে তখন যেকোনো খরচ করার আগে সবার প্রথমে উচিত সঞ্চয়ের ভাগটা আলাদা করে নেওয়া।

“খরচের পর যা পড়ে থাকে সেটা সঞ্চয় না করে বরং সঞ্চয় করার পর যা পড়ে থাকে সেটা খরচ করুন।”

ওয়ারেন বাফেট

এটা ভালো করে মেনে চলার জন্য মাসের প্রথমেই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের রেকারিং ডিপোজিট বা মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি করা যেতে পারে, যাতে মাইনে ঢোকার পরেই ওই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকাটা হাতের বাইরে গিয়ে সঞ্চয়ের খাতে পড়ে যায় যাতে কোনোভাবেই আর সেটায় হাত না দেওয়া যায়।

4. সঞ্চয়ের জন্য বিভিন্ন লক্ষ্য স্থির করা জরুরী

কেবলমাত্র সঞ্চয়ের জন্যই সঞ্চয় না করে যদি শর্ট ও লং টার্মের জন্য বিভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণ করে তার জন্য সঞ্চয় করা হয় তাহলে কিন্তু সঞ্চয় করতে সুবিধা হয়। যেমন ধরুন গাড়ি কেনা, বেড়ানো, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা, কোনও অ্যাপ্লায়েন্স কেনা, অবসরের পরিকল্পনা ইত্যাদি ছোট-বড় বিভিন্ন রকম লক্ষ্য স্থির করে সেই লক্ষ্য পূরণ করার জন্য যদি সঞ্চয়ের পোক্ত পরিকল্পনা করে এগোনো যায় তাহলে স্থির লক্ষ্যের দিকে নজর রেখে লক্ষ্য পূরণ করাটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

5. ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব রাখুন

কোন ক্ষেত্রে, কি কারণে, কত খরচ হচ্ছে সেই হিসেবটা রাখা কিন্তু খুবই জরুরী। এই হিসেবটা রাখলেই বোঝা যাবে কোন খাতে কত অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় খরচ হয়ে যায়। এবং সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী খরচের রিব্যালান্সিং করে টাকা আরো ভালো করে ম্যানেজ করা যায় এবং সঞ্চয় বাড়াতে সুবিধে হয়।

এই কাজটা পুরানো নিয়মে খাতা কলমে খরচের হিসেব লিখে করা যেতে পারে বা আধুনিক স্মার্টফোনের যুগে কোনো নোট নেওয়ার অ্যাপে করা যেতে পারে কিংবা খরচ ম্যানেজ করার স্পেশালিস্ট অনেক অ্যাপ পাওয়া যায় সেগুলোর মাধ্যমেও করা যেতে পারে। এই অ্যাপগুলোর একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অনলাইনে ট্রানজেকশনের যে সমস্ত এসএমএস আসে সেগুলো থেকে আয়-ব্যয়ের পরিমাণের অংক গুলো পড়ে নিয়ে এই অ্যাপগুলো নিজে নিজেই আয়-ব্যয়ের হিসেব করে দেয়। এরকমই একটা অ্যাপ হল মানি ম্যানেজার

6. প্রয়োজন, অপ্রয়োজন আর চাহিদার তফাৎ বুঝুন!

কেনাকাটার সময় বা কোনো জিনিস কেনার আগে অনেক সময় আমরা গুলিয়ে ফেলি কোন জিনিসটা আমাদের প্রয়োজন আর কোনটা চাহিদা। আর এর চক্করে পড়ে অনেকসময় চাহিদা মেটাতে গিয়ে খরচাপাতি অনেক বেশি হয়ে যায় বা আসলে প্রয়োজন নেই এরকম জিনিস কেনা হয়ে যায়।

খরচ কমাতে হলে প্রকৃত প্রয়োজনীয় জিনিস বাদে চাহিদার জিনিস কেনা কম করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।

“যদি আপনি সঞ্চয় না করে অবিরাম অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে থাকেন তাহলে একদিন আপনাকে প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করতে হবে।”

– ওয়ারেন বাফেট

এটা রোজকার জীবনে বাস্তবায়িত করতে হলে একটা পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। একটা জিনিস নজরে পড়ার পর কেনার ইচ্ছে হলে কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে একটু সময় নিতে হবে। কমপক্ষে দু-তিন দিন সময় নিয়ে একটু ভাবলে সেটা আসলে কেনার দরকার আছে নাকি নেই সেটা মনের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যায় এবং আজেবাজে জিনিস কেনাকাটা থেকে নিরস্ত হয়ে টাকা বাঁচানো যায়।

আরও পড়ুনঃ  বেশি ছাড়ে ফ্যাশন সংক্রান্ত জিনিস কেনাকাটার জন্য অনলাইনের সেরা 5টা ওয়েবসাইট ও তাদের তুলনামূলক সুবিধা-অসুবিধা

7. মুদিখানার কেনাকাটায় টাকা বাঁচান

প্রতিমাসে মুদিখানার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের একটা তালিকা করুন এবং তারপর পারলে সেই তালিকা অনুযায়ী একসাথে মাসকাবারি বাজার করার চেষ্টা করুন। এতে আপনি অনেক বেশি ছাড় পাবেন এবং তালিকা অনুযায়ী কেনাকাটা করলে প্রয়োজনীয় ও পরিমাণমতো কেনাকাটায় সুবিধা হবে।

মুদিখানার বাজার অনলাইনে করলে অনেক বেশি ছাড়ের সুবিধা নিতে পারবেন। আর কিভাবে অনলাইনে মুদিখানার জিনিস সবথেকে কম দামে পাবেন সেব্যাপারে বিষদে জানতে এই লিঙ্কে দেওয়া আর্টিকেলটা পড়ে নিতে পারেন।

8. অন্যান্য কেনাকাটায় টাকা বাঁচান

মুদিখানার জিনিস ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও ভালো গুনমানের জিনিসপত্র অনেক ছাড়ে কিনে টাকা বাঁচাতে হলে,

-এই দুটো আর্টিকেল পড়ে নিতে পারেন।

9. ইএমআই তে কেনাকাটা বন্ধ করুন

অনলাইন এবং অফলাইনে দামী দামী জিনিসপত্র কিনতে প্ররোচিত করার জন্য ইএমআই, নো-কস্ট ইএমআই, ইএমআই তে ক্যাশব্যাক ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের প্রলোভন দেওয়া হয়।

কিন্তু ইএমআই তে কেনাকাটা করলে এককালীন খরচ হয়তো একটু কম হয় তবে লম্বা সময়ের ব্যবধানে একের পর এক ইএমআই ও তার সুদ খরচের বোঝা ক্রমাগত বাড়াতে থাকে এবং সঞ্চয়ের খাতে ভাগ বসাতে থাকে।

তাই একান্ত প্রয়োজন না পড়লে ইএমআই তে কেনাকাটা থেকে বিরত থাকা উচিৎ।

10. বড় কেনাকাটায় ক্যাশ ব্যবহার করুন

দামী কোনোকিছু কেনাকাটার সময় ডিজিটাল পেমেন্ট না করে ক্যাশে পেমেন্ট করতে পারলে ভালো হয়। ডিজিটাল পেমেন্ট করলে আসলে কতটা খরচ হয়ে যাচ্ছে সেটা আমাদের মন ঠিকমতো অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়।

আর ডিজিটাল পেমেন্ট এর বদলে নিজের হাতে করে ক্যাশ গুনে পেমেন্ট করলে একসাথে এতগুলো টাকা হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টা মনের মধ্যে স্ট্রাইক করে। আর তাতে জিনিসটা আদৌ দরকার কিনা বা কম দামের কোনও বিকল্প দিয়ে কাজ চলতে পারে কিনা সেবিষয়ে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

11. কেনাকাটাগুলোকে দাম দিয়ে না মেপে কতক্ষণের কাজের টাকা লাগছে সেই সময় দিয়ে মাপুন

উপরের পদ্ধতিটার মতোই কোনো জিনিসের দামের অঙ্কটা কতটা সময় ব্যয় করে আয় করতে হয়েছে সেভাবে ভাবলে বড় কিছু খরচ করার আগে এমনি এমনিই মনের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হবে এবং অতিরিক্ত খরচ করা থেকে নিজেকে আটকাতে সুবিধা হবে।

12. অপ্রয়োজনীয় এন্টারটেইনমেন্ট সাবস্ক্রিপশন ক্যানসেল করে দিন

আজকের দিনে একটার পর একটা ওটিটি, অডিও সার্ভিস ও আরও বিভিন্নরকম অ্যাপের সাবস্ক্রিপশন কিনতে কিনতে এর বোঝাটা ক্রমশ বাড়তে থাকে। তবে বিভিন্ন রকমের সাবস্ক্রিপশন নিলেও আদপে একসাথে অনেকগুলো সাবস্ক্রিপশন সেভাবে ব্যবহার তো আর করা যায় না।

তাই যে সার্ভিস গুলো সেভাবে ব্যবহার করা হয় না সেগুলো ক্যানসেল করে দেওয়া যেতে পারে।

13. কেবল, ফোনের রিচার্জ ও ইন্টারনেট খরচ কমান

বাড়িতে একটা ব্রডব্যান্ড কানেকশন নিলে সেটা একসাথে অনেকগুলো খরচ কমাতে পারে। আজকের দিনে ব্রডব্যান্ড প্ল্যানগুলো সাধারণত আনলিমিটেড ডেটা ব্যবহারের সুযোগ দেয়। একটা ব্রডব্যান্ড কানেকশন নিয়ে ওয়াইফাই এর মাধ্যমে যদি বাড়ির সকলে ব্যবহার করা যায় সে ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের খরচটা কম হয়।

আবার টিভির ক্ষেত্রে ওই একই ইন্টারনেট কানেকশন একটা স্মার্ট টিভি বা ফায়ার স্টিক এর মত কোনো একটা স্ট্রিমিং ডিভাইসের সাহায্যে ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে টিভিতে প্রোগ্রাম দেখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অনেক ওটিটি অ্যাপ কোনরকম সাবস্ক্রিপশন ছাড়াও খবরের চ্যানেল এবং অন্যান্য অনেক অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ দেয়। এভাবে টিভি দেখলে কেবল কানেকশন কেটে দিয়ে টাকাটা বাঁচানো যেতে পারে।

বাড়িতে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা মোবাইল এবং তাতে দুটো করে কানেকশন মিলিয়ে সারা মাসে মোবাইল রিচার্জে অনেক টাকা খরচ হয়। অপ্রয়োজনীয় সিমগুলো ফেলে দিয়ে এবং পুরো বাড়ির কথা বলার জন্য একটা কমন সিমে আনলিমিটেড রিচার্জ করে খরচ কমানো যায়। এছাড়া কথা বলার জন্য বাড়ির ওয়াইফাই ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য বিভিন্ন কলিং অ্যাপের মাধ্যমে ফোনের কোনো কলিং প্ল্যান ছাড়াও কথা বলা যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  সঠিক ও ভালো মিউচুয়াল ফান্ড চেনার উপায়। নতুনদের জানতেই হবে

14. নন ব্র্যান্ডেড জেনেরিক জিনিস ব্যবহার করুন

কিছু কিছু জিনিসের ক্ষেত্রে (যেমন ওষুধপাতি, গ্রোসারী আইটেম ইত্যাদি) ব্র্যান্ড না খুঁজে জেনেরিক আইটেম কিনলে মানে এমন কিছু তফাৎ হয় না তবে অনেকগুলো টাকা বাঁচানো যায়।

15. ‘সস্তার দুরবস্থা’ যাতে না হয় সেজন্য টাকা বাঁচাতে কখনও একটু বেশি খরচ করুন

কিছু ক্ষেত্রে আবার একটু বেশি খরচ করে ভালো মানের জিনিস কিনলে প্রথমে একটু বেশি খরচ হলেও লম্বা সময়ের বিচারে খরচ কমই হয়।

যেমন ধরুন এসি কিনবেন ঠিক করলেন কিন্তু সস্তায় ওয়ান ষ্টার রেটিং-এর একটা এসি কিনলেন। ওয়ান স্টার রেটিং হওয়ায় তাতে আপনার অনেক বেশি বিদ্যুতের খরচ হওয়া শুরু হল এবং সস্তার জিনিস হওয়ায় এক বছর পর থেকেই টুকটাক সমস্যা দেখা দিতে আরম্ভ করল যার ফলে সার্ভিসিং এর খরচও হতে থাকলো।

যদি আপনি একটা দামী ফাইভ স্টার ওয়ালা এসি কিনতেন তাহলে আপনার বিদ্যুৎ খরচ কম হতো এবং কম সময়ের মধ্যে সমস্যাও সহজে হত না।

একই জিনিস অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সস্তার জিনিস সাধারণত মানে ভালো হয়না এবং টেকসই হয় না। তাই সস্তার বাজে মানের জিনিস কিনে টাকা বাঁচাতে গেলে কম সময়ের মধ্যে সেই জিনিস আবার কিনতে হয় ও খরচ আসলে বেড়ে যায়!

16. ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বা না করে টাকা বাঁচান

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করার সময় কিছু নিয়ম অনুসরণ করলে কিছু টাকা বাঁচানো যায়। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা বাঁচানোর সেসব গোপন উপায় জানতে ← এই আর্টিকেলটা পড়ে নিতে পারেন। 

তবে ক্রেডিট কার্ড অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করলে খরচ অনেক বাড়তে পারে তাই ক্রেডিট কার্ড যদি ঠিকভাবে ব্যবহার করার অভ্যাস না থাকে সেক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড গুলো সারেন্ডার করে তার বদলে ডেবিট কার্ড বা ক্যাশ ব্যবহার করতে পারেন।

17. ইমেইল ও অ্যাপ নোটিফিকেশন আনসাবস্ক্রাইব করে দিন 

কেনাকাটার বিভিন্ন অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন রকম ডিলের ইমেইল এবং নোটিফিকেশন ক্রমাগত পাঠাতে থাকে যাতে কাস্টমাররা বারবার সেখানে গিয়ে কেনাকাটা করতে উদ্যত হয়।

তাই এ ধরনের সাবস্ক্রিপশন গুলো ক্যান্সেল করে দিলে, না থাকবে বাঁশ আর না বাজবে বাঁশি। আর তাতে কেনাকাটার ইয়ে টা কম উঠবে আর আদপে লাভটা আপনারই হবে।

18. ‘বিনা খরচের দিন’ উদযাপন করুন 

বাড়ির বয়স্করা যেমন মাঝে মধ্যে উপোষ করেন তেমনি কেনাকাটার ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝে উপোষের দিন রাখলে, মানে এক একটা দিন ‘বিনা খরচের দিন’ হিসাবে পালন করলে একটু হলেও খরচ কমাতে পারবেন।

19. বিভিন্ন ক্ষেত্রে টাকা বাঁচানোর বিবিধ বিষয়ে আরও জানুন

টাকা বাঁচানোর ব্যাপারে বিবিধ বিষয়ে প্রচুর আর্টিকেল এই guptadhan.com এর ‘টাকা বাঁচাও!’ বিভাগে পাবেন। ঐ বিভাগে গিয়ে আরও পড়ুন ও আরও জানুন। যত বেশি জানবেন তত বেশি সঞ্চয় করতে সক্ষম হবেন।

20. বিনিয়োগ করুন 

শুধু টাকা বাঁচালে হবে না, বাঁচানোর পর সেই টাকা বিনিয়োগ করে আরও বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। টাকা এমনিতে ফেলে রাখলে কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে সেই টাকার বাইং পাওয়ার সময়ের সাথে কমতে থাকে।

“বুদ্ধিমানরা সঞ্চয় করে এবং পরে তা বিনিয়োগ করে”

– জন হেস্টিংস

বিনিয়োগের নানাবিধ উপায় এখান থেকে জানতে পারবেন এবং বিনিয়োগের বিষয়ে বিবিধ আর্টিকেল এই বিভাগে পাবেন।

শেষ কথা

টাকা বাঁচানো বা সঞ্চয় করা খুবই ভালো একটা অভ্যাস এবং এটা করা উচিৎ-ও বটে। তবে আর সব কিছুর মতোই সঞ্চয়ও অতিরিক্ত ভালো না। সঞ্চয় করতে গিয়ে বর্তমান জীবনধারণটা যেন অস্বস্তিকর পর্যায়ে না চলে যায় বা প্রকৃত প্রয়োজনগুলোও যেন সঞ্চয়ের চক্করে পড়ে অপূর্ণ না থেকে যায়!

মন্তব্য করুন